১০ হাজার টাকায় তিন দিনের জন্য সিম ভাড়া দিয়েছিলেন লিটন; ওই অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চক্রের অন্যতম সহযোগী মো. লিটন হাওলাদারকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। নিজের নামে নিবন্ধিত বিকাশ/নগদ এজেন্ট সিম টাকার বিনিময়ে অনলাইন জুয়ার কাজে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, লিটন খুলনার খালিশপুর থানার বড় বয়রা পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পল্টন মডেল থানায় ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট দায়ের করা মামলা নম্বর ৩৫-এর তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯(১), ২২, ২৩, ২৪(১), ২৪(২), ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
পূর্বে গ্রেপ্তার আসামির তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত
মামলায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি শেখ সাখির আহম্মেদ (৩৩) গত ৪ সেপ্টেম্বর আদালতে সোপর্দ হওয়ার পর অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত সিম সরবরাহকারী ১৪ জন দোকানদারের নাম প্রকাশ করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার বৈকালী এলাকার ‘লিটন টি স্টল’-এর এজেন্ট মো. লিটন হাওলাদারকে শনাক্ত করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৪ নভেম্বর তাঁকে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে তলব করা হয়।
তিন দিনে লেনদেন ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা
সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে লিটন জানান, নিজের নামে নিবন্ধিত বিকাশ/নগদ এজেন্ট সিমটি খুলনার বয়রা এলাকার এক অটোচালকের কাছে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিন দিনের জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন।
সিমটির বিকাশ অ্যাকাউন্টের লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ৭ থেকে ৯ আগস্ট—মাত্র তিন দিনে ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সাইটে ২ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ টাকা লেনদেন হয়েছে।
মোবাইল ফোন ও এজেন্ট সিম জব্দ
সাখির আহম্মেদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা পাওয়ার পর সিআইডি প্রধান কার্যালয় থেকে লিটন হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন ও একটি বিকাশ/নগদ এজেন্ট সিম জব্দ করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে লিটন টাকার বিনিময়ে নিজের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম অনলাইন জুয়ার কাজে ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

