ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে অনুমতি; ভারত ও চীনের জাহাজকে দিতে হবে নির্ধারিত মাশুল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চার দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজ এখন থেকে কোনো বাধা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ব্যবহার করতে পারবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আমির হায়াত-মোগাদ্দম এ ঘোষণা দেন। তবে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে দেশভেদে মাশুলের শর্ত রাখা হয়েছে।
ভারত ও চীনের জাহাজকে দিতে হবে ট্রানজিট ফি
আমির হায়াত-মোগাদ্দম জানান, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের জন্য ভারত ও চীনের বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্ধারিত ট্রানজিট ফি বা মাশুল দিতে হবে। কাতারের জাহাজের ক্ষেত্রে এ মাশুল মওকুফ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরাকের পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও তাদের কাছ থেকে মাশুল নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
নির্বাচনের ফল নিয়ে উচ্ছ্বাস না দেখানোর আহ্বান মোজতবা খামেনির
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করতে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
বুধবার তিনি বলেন, নির্বাচনের এই ফলাফল ওয়াশিংটনের ইরান নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে—এমনটা আশা করার কারণ নেই।
একই দিন পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দেন মোজতবা। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ার আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে সংঘাতের পরিধি আরও বড় হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ট্রাম্পের পরাজয় নিয়ে ইরানের কটাক্ষ
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের পরাজয় নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি ইরান সরকার। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে লেখা হয়, ‘যখন এবং যেখানে শয়তানকে দেখবেন, তাকে টেনে নিচে নামান।’
ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসও ট্রাম্পকে নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে চার ব্যক্তিকে ট্রাম্পকে তুলে ‘বিপজ্জনক বর্জ্য’ লেখা একটি ডাস্টবিনে ফেলে দিতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন’।

