অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মানোন্নয়নে জোর দিচ্ছে সরকার

ডিজিটাল সেবার সাফল্য প্রযুক্তির সংখ্যা দিয়ে নয়, নাগরিকের সুবিধা, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার ভিত্তিতে মাপতে হবে বলে মন্তব্য ফকির মাহবুব আনামের

সরকারি সেবা অনলাইনে পাওয়া গেলেই তা পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সেবা হয়ে যায় না। ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য নির্ধারণ করতে হবে নাগরিকের জন্য সেবা কতটা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য হলো, তার ভিত্তিতে—প্রযুক্তির সংখ্যা দিয়ে নয়। এমন মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘ইউএন গভর্ন্যান্স ইনোভেশন সামিট: অ্যাডভান্সিং ফিউচার-রেডি ইনস্টিটিউশনস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অষ্টম অধিবেশনে বক্তব্য দেন তিনি। ‘চ্যালেঞ্জিং কনভেনশনাল অ্যাপ্রোচেস টু গভর্ন্যান্স ইনোভেশন অ্যান্ড অ্যান্টিসিপেটরি গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক সংলাপে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ছাড়া প্রযুক্তির সুফল মিলবে না

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সরকারি প্রশাসনের পরিবর্তন সম্ভব নয়। সংযোগ বা কানেক্টিভিটি ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তি হলেও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিই সেই সংযোগকে জনকল্যাণে রূপ দেয়।

নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে সরকারকে সমস্যার ধরন বুঝতে হবে, বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমাতে হবে, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব স্পষ্ট করতে হবে এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনায় তিনি ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য তিনটি সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেন। এগুলো হলো—

  • সক্ষম প্রতিষ্ঠান: স্পষ্ট জবাবদিহি, আন্তঃসংযোগযোগ্য ডেটা ব্যবস্থা এবং কার্যকর সমন্বয়।
  • দক্ষ জনবল: নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মানসিকতা।
  • জনগণের আস্থা: শক্তিশালী ডেটা ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সহজলভ্য অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি নাগরিককে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য করবে না; বরং সরকারি ব্যবস্থাই নাগরিকের সঙ্গে খাপ খাওয়াবে।’

প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন একসঙ্গে

মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি নিজেই প্রাতিষ্ঠানিক বাধা চিহ্নিত করতে এবং সংস্কারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশ প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘এআই, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে।’ সরকার এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

আলোচনা শেষে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, কাগজভিত্তিক পদ্ধতিকে শুধু অনলাইনে স্থানান্তরের মানসিকতা থেকে সরে এসে নাগরিকের চাহিদা অনুযায়ী পুরো সেবাপ্রক্রিয়া নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এতে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমছে এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে সরকারি সেবা আরও দ্রুত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

অধিবেশনে বাংলাদেশের মন্ত্রী ছাড়াও লেসোথোর মন্ত্রী মোয়েকেতসি মোৎসোয়ানে, মৌরিতানিয়ার ব্রাহিম বুলখেইর এবং মেক্সিকোর ক্যারোলিনা প্লাটা লোপেজ অংশ নেন। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের অধীন পাবলিক সার্ভিস ও সোশ্যাল ইনোভেশনবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থার (SAPSSI) উপ-চেয়ারম্যান জেহুন সালমানভ অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন।

সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রশাসনিক উদ্ভাবন এবং জনসেবায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে মতবিনিময় করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন