সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ডেটা সেন্টারের নাম বদলে ‘এআই কম্পিউট ক্যাম্পাস’ করার পরিকল্পনা ওপেনএআইয়ের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে নির্মিত বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে এসব স্থাপনার পরিচিতি পরিবর্তন করে ‘এআই কম্পিউট ক্যাম্পাস’ (AI Compute Campuses) নামে উপস্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে ব্যাপক জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওপেনএআইয়ের প্রধান বৈশ্বিক সম্পর্কবিষয়ক কর্মকর্তা ক্রিস লেহান অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক গুরুত্বের একটি পূর্বাভাস দিতে পারে।

তাঁর মতে, ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এআই প্রযুক্তি, এর নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

জনমত পরিবর্তনে নতুন কৌশল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি নীতিগত ও যোগাযোগভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করছে ওপেনএআই।

এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে এআই ব্যবহারে উপযুক্ত সীমা নির্ধারণ, দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তিটির ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এআই পরিচালনার অভিন্ন নীতিমালা তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা।

পাশাপাশি প্রচলিত ডেটা সেন্টারগুলোর পরিচিতি পরিবর্তন করে ‘এআই কম্পিউট ক্যাম্পাস’ হিসেবে উপস্থাপনের ধারণাও আলোচনায় রয়েছে।

তবে নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।

বিশেষ করে বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার, পানি সরবরাহের ওপর চাপ, স্থানীয় অবকাঠামোর সক্ষমতা এবং প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ ধরনের বিতর্কের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যামাজন ও মাইক্রোসফট স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ডেটা সেন্টারসংক্রান্ত আলোচনায় গোপনীয়তা চুক্তি বা নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (NDA) ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এর ফলে বড় প্রযুক্তি প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্থানীয় জনগণের জবাবদিহির দাবি যৌক্তিক

ডেটা সেন্টারকে ঘিরে চলমান বিতর্ককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ওপেনএআইয়ের কর্মকর্তা ক্রিস লেহান।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বড় প্রযুক্তি প্রকল্প থেকে স্থানীয় জনগণ প্রকৃত অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন।

তিনি মনে করেন, স্থানীয় সম্প্রদায়ের উচিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রকল্পের বাস্তব সুফল সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও নিশ্চয়তা দাবি করা।

২০২৮ সালের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এআই

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু প্রযুক্তি খাতের বিষয় নয়। কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, তথ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি চাহিদা এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের সঙ্গেও প্রযুক্তিটির সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এআই নিয়ন্ত্রণ ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রশ্ন আগামী দিনে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

তবে ডেটা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করলেই বিদ্যুৎ ব্যবহার, পরিবেশগত প্রভাব কিংবা স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ দূর হবে না। এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান এবং প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করাই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন