সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ

তথ্য সংগ্রহে অবহেলা, পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের সুযোগ নেই; ৩৬ তথ্য সংগ্রহকারীর মধ্যে ট্যাব বিতরণ

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রকৃত উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিত করা এবং মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। তিনি বলেছেন, প্রতিটি পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, যাতে উপযুক্ত কোনো পরিবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।

আজ সকালে বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বরিশাল জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয় যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে।

তথ্য সংগ্রহে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব এড়ানোর নির্দেশ

বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা, পক্ষপাতিত্ব কিংবা অনিয়মের সুযোগ রাখা যাবে না। তথ্য সংগ্রহকারীদের সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই উপকারভোগী নির্বাচনসহ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তাই দায়িত্ব পালনে সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এ কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত ও উপযুক্ত পরিবারের কাছে পৌঁছায়, তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণের পাশাপাশি তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সরেজমিনে যাচাই করে তথ্য সংগ্রহের তাগিদ

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ। একটি ভুল তথ্যের কারণে প্রকৃত উপকারভোগী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। আবার অযোগ্য কেউ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

তিনি বলেন, তাড়াহুড়া, অনুমাননির্ভর তথ্য কিংবা ব্যক্তিগত পরিচিতির ভিত্তিতে কোনো তালিকা প্রস্তুত করা যাবে না। প্রতিটি পরিবারের তথ্য সরেজমিনে যাচাই করে সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করতে হবে।

ফরিদা সুলতানা আরও বলেন, কোনো প্রকৃত উপকারভোগী যাতে বাদ না পড়েন এবং অনুপযুক্ত কেউ যাতে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না পান, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ কার্যক্রমকে শুধু দাপ্তরিক দায়িত্ব হিসেবে না দেখে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহে ৩৬ জনকে ট্যাব বিতরণ

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত ৩৬ জন তথ্য সংগ্রহকারীর মধ্যে ট্যাব বিতরণ করা হয়। এসব ট্যাবের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করা হবে।

অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ইকবাল কবির, সহকারী পরিচালক জাবির আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন