প্রতিদিন শোধন করা হবে সাড়ে ৩ লাখ লিটার পানি; নতুন ১০ কিলোমিটার পাইপলাইন হলে উপকৃত হবেন আরও ৫০০ পরিবার
মুন্সীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১০ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগারটি চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। শোধনাগারটি চালু হলে ধলেশ্বরী নদীর পানি শোধন করে প্রতিদিন সাড়ে ৩ লাখ লিটার পানি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। এতে পৌর এলাকায় সুপেয় পানির সরবরাহব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাহিদার তুলনায় পানির সরবরাহ কম
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার আয়তন প্রায় ১৭ দশমিক ৭৪ বর্গকিলোমিটার। প্রায় এক লাখ মানুষের বসবাস এ পৌরসভায়, যেখানে পরিবারের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। তবে পৌরসভার সব ওয়ার্ডে পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই।
পৌর এলাকায় প্রতিদিন পানির চাহিদা প্রায় ৩৩ লাখ গ্যালন। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২৩ লাখ ৫ হাজার গ্যালন। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে।
ধলেশ্বরীর পানি শোধন করে সরবরাহ
মুন্সীগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর বাসসকে বলেন, দেশের ৩৭ জেলা শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে মুন্সীগঞ্জ শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকায় পানি শোধনাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি জানান, ১০ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শোধনাগারটিতে শহরসংলগ্ন ধলেশ্বরী নদী থেকে পানি এনে প্রতিদিন সাড়ে ৩ লাখ লিটার পানি শোধন করা হবে। এরপর তা পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌর এলাকার বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
হুমায়ুন কবীর বলেন, শোধনাগারটির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পানির নমুনা পরীক্ষা ও পরীক্ষামূলক সরবরাহও শুরু হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রকল্প এলাকায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, শোধনাগারের মাধ্যমে সরবরাহ করা পানি বিশুদ্ধ, নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত এবং আয়রনমুক্ত হবে।
কারিগরি কাজ শেষে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর জানান, কিছু কারিগরি কাজ এখনো বাকি রয়েছে। সেগুলো শেষ হলে শোধনাগারটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রকল্পটি বুঝে নেওয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
নতুন পাইপলাইন পাবে আরও ৫০০ পরিবার
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি) মো. আনিসুর রহমান বাসসকে বলেন, বর্তমানে পৌরসভায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার পানির পাইপলাইন রয়েছে। জনসংখ্যা ও এলাকার তুলনায় এ অবকাঠামো অপর্যাপ্ত।
তিনি জানান, পানি শোধনাগার প্রকল্পটি চালু হলে পৌর এলাকায় আরও প্রায় ১০ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন স্থাপন করা সম্ভব হবে। এতে পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং আরও ৫০০-এর বেশি পরিবার উপকৃত হবে।
দ্রুত চালুর দাবি নাগরিকদের
জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. আরিফ উল ইসলাম বাসসকে বলেন, শোধনাগার থেকে শহরের পাইপলাইনে পানি সরবরাহ শুরু হলে পৌরবাসী নিরাপদ, আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত সুপেয় পানি পাবেন। তাই দ্রুত প্রকল্পটি চালু করে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান তিনি।
গণকপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমানও শোধনাগারটি চালুর মাধ্যমে পাইপলাইনে পানি সরবরাহের উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তবে এ কারণে যেন পানি উন্নয়ন কর বাড়ানো না হয়, সে বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

