অনুসরণ করুন:
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

বিমানবন্দরে হুমকি ও মারধরের মামলায় জামিন পেলেন জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান

শাহজালালের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় হাই কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি দেওয়া ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাই কোর্ট।

রোববার শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, মামলায় দেওয়া ধারাগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবই জামিনযোগ্য। আখতারুজ্জামানের বয়স, সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর পরিচয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।

২ অক্টোবর বাসা থেকে গ্রেপ্তার

গত ২ অক্টোবর ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এর আগের দিন মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে বিমানবন্দরে তাঁর উচ্চবাচ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে তাঁকে হুমকিমূলক কথা বলতে শোনা যায়।

ট্রলি ও জমজমের পানি সরবরাহ নিয়ে বিরোধ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১ অক্টোবর সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে জামায়াতের ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে মদিনা থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই সময় আগমনী যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছিল। কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভেঙে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের কারণে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন বলে মামলার বিবরণে বলা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান।

নির্বাহী পরিচালক সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার সময় আখতারুজ্জামান তাঁর দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং গালিগালাজ ও হুমকি দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নির্বাহী পরিচালক তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগ

এজাহারে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় সংসদ সদস্য কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন। পরে আখতারুজ্জামান উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে হুমকি দেন এবং বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় ভিডিও ধারণ না করতে সংশ্লিষ্টদের নিষেধ করেন দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ও ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তখন আখতারুজ্জামান তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মারধরের ঘটনাটি সিসিটিভির আওতাভুক্ত ছিল না। তবে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে ঘটনাটি প্রমাণ করা সম্ভব বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে এলে তাঁর সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ট্রলি থেকে সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ দেন আখতারুজ্জামান

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এর আগে তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কটিয়াদী আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এবার ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাঁর ছোট ভাই আনিসুজ্জামান খোকন। তিনি ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন