ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে ক্ষমতার মোহের পরিবর্তে নীতি, জনস্বার্থ ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেছেন, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব শুধু বিচারব্যবস্থার নয়; আইনজীবীসহ রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীদেরও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতার পাশাপাশি আইনজীবীদের সততা, নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে হবিগঞ্জ ল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মতিন খানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্ব
ডেপুটি স্পিকার বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠান দক্ষ, সৎ, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আইনজীবী তৈরির মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে অবদান রাখে।
তিনি বলেন, হবিগঞ্জ অঞ্চলে আইন শিক্ষার প্রসার এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের আইন বিষয়ে শিক্ষিত হয়ে পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে মরহুম অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মতিন খানের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শিক্ষা বিস্তার ও আইন পেশার উন্নয়নে তাঁর নিষ্ঠা ও দূরদর্শিতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
হবিগঞ্জ ল কলেজ ভবিষ্যতেও যোগ্য, সৎ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আইনজীবী তৈরির মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আইনজীবীদের সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর জোর
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আইনজীবীদের দায়িত্ব শুধু আদালতে মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতেও তাঁদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। রাজনৈতিক মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সবাইকে অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, জনগণ যাঁদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তাঁদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। তাই ক্ষমতার লোভ নয়, বরং ন্যায়বিচার, জনস্বার্থ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে ন্যায়বিচার, সাম্য, আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।
স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. জি কে গউছ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এ ছাড়া হবিগঞ্জ ল কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, আমন্ত্রিত অতিথি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

