বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

টাঙ্গাইলে কৃষিজমিতে মাটি খুঁড়ে মিলল রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু

দুটি বাক্সে পাওয়া গেছে তিনটি হাতবোমাসদৃশ বস্তু, গায়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান পুলিশ’ লেখা নেমপ্লেট

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কৃষিজমিতে মাটি খুঁড়তে গিয়ে জং ধরা দুটি বাক্সের সন্ধান পেয়েছেন এক কৃষক ও তাঁর ছেলে। বাক্স দুটি থেকে ১২টি রকেট লঞ্চারসদৃশ বস্তু এবং তিনটি গোলাকার হাতবোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাক্স দুটির গায়ে ইংরেজি অক্ষরে ‘পূর্ব পাকিস্তান পুলিশ’ লেখা একটি নেমপ্লেট রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার কচুয়া থলচালা এলাকার একটি কৃষিজমি থেকে এসব বস্তু উদ্ধার করা হয়।

মাটি খুঁড়তে গিয়ে বাক্সের সন্ধান

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া থলচালা এলাকার কৃষক মো. আশ্রব আলী তাঁর ছেলে শাকিলকে নিয়ে জমিতে মাটি কাটছিলেন। এ সময় মাটির নিচে লোহার তৈরি দুটি বাক্স দেখতে পান তাঁরা। পরে বাক্স দুটি মাটি থেকে তুলে জমির আইলে রেখে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাক্স দুটি থেকে সন্দেহজনক বস্তুগুলো উদ্ধার করে।

বাক্সে ‘পূর্ব পাকিস্তান পুলিশ’ লেখা নেমপ্লেট

পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা বস্তুগুলো অনেক পুরোনো ও জং ধরা। দুটি বাক্সে ছয়টি করে মোট ১২টি রকেট লঞ্চারসদৃশ বস্তু পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তিনটি গোলাকার হাতবোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি অনেক লোকজনের উপস্থিতি দেখতে পান। তাঁর ধারণা, এগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অথবা তার আগের সময়ের পূর্ব পাকিস্তান পুলিশের ব্যবহৃত কোনো পুরোনো সরঞ্জাম হতে পারে। তবে এগুলোর প্রকৃত পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে উদ্ধার করা বস্তু

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, পুরোনো ও জং ধরা ১২টি গুলিসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।

ওসি জানান, তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা বস্তুগুলো গ্রেনেড নয়, রকেট লঞ্চার। তবে বস্তুগুলোর প্রকৃত পরিচয় ও ধরন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা প্রয়োজন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন