শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হওয়ার আহ্বান ব্যারিস্টার কায়সার কামালের
শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই একটি আধুনিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। তিনি বলেছেন, পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হতে হবে। শিক্ষাঙ্গন থেকেই দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও ইতিবাচক জাতীয় ভাবনার বিকাশ ঘটাতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘শিক্ষাঙ্গন থেকে জাতীয় ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতি গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা
ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশের পথিকৃৎ। তাঁদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে দক্ষ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিসিএস কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশার যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। তাই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো জরুরি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সাহস, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গন কেবল জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; বরং সুনাগরিক, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। শিক্ষার্থীদের চিন্তা, মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে।
কিশোর গ্যাং ও মাদক থেকে দূরে রাখতে সহশিক্ষা কার্যক্রম
কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সমস্যার বিস্তার রোধে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে এসব সমস্যা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
মাতৃভাষার পাশাপাশি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের প্রতিও শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশে শিক্ষকদের দায়িত্ব
শিক্ষকদের উদ্দেশে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আচরণ, দায়িত্ববোধ এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ বিতর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গঠনমূলক মতবিনিময়ের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান
দুর্নীতিকে বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সমাজের সর্বস্তরে সততা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ইভটিজিংসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি আধুনিক, মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমাদের সাফল্যের দিকে তোমাদের বাবা-মায়ের পাশাপাশি দেশ ও জাতিও তাকিয়ে আছে। নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলো। আসুন, সবাই মিলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলি।”
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত অতিথিরা
জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. জি কে গউছ, পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ এবং প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল মজীদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

