অনুসরণ করুন:
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

এলডিসি উত্তরণে বাড়তি তিন বছর, সরকারের রাজনৈতিক দায় বেড়েছে: দেবপ্রিয়

সংস্কারের প্রতিশ্রুতিতে সময় দিয়েছে জাতিসংঘ; তা বাস্তবায়ন না হলে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সিপিডির ফেলোর

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘ব্যতিক্রমী’ বলে মনে করছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, অতিরিক্ত এই সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে চিঠি দিয়ে সহযোগিতা চাওয়ায় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রাজনৈতিক দায় এখন সরাসরি সরকারের নেতৃত্বের ওপর বর্তেছে।

রোববার রাজধানীতে সিপিডির কার্যালয়ে এলডিসি থেকে উত্তরণ ও সরকারের সংস্কার পদক্ষেপ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

প্রযুক্তিগত বিষয় থেকে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতায় উত্তরণ

দেবপ্রিয় বলেন, আগে এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়টি মূলত আমলা ও মন্ত্রী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী নিজে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে চিঠি দেওয়ায় বিষয়টি সরকারের সামগ্রিক রাজনৈতিক দায়দায়িত্বের অংশ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “আগে যেকোনো সময় এটা হয়ত আমলা, মন্ত্রী ইত্যাদির পর্যায়ে ছিল, এখন এটা সরকারের সামগ্রিকতায় রাজনৈতিক দায়দায়িত্বের ভিতরে চলে এসেছে।”

দেবপ্রিয়ের মতে, জাতিসংঘও বিষয়টিকে সেভাবেই বিবেচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর চিঠির মধ্য দিয়ে অতিরিক্ত তিন বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট সংস্কার ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, “এটা আর কোনো কারিগরি বিষয় বলে বিবেচিত না। কারিগরি বিষয় আছে, বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় আছে, কিন্তু তার চেয়ে বেশি এটা এখন একটা রাজনৈতিক মালিকানার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।”

২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ল উত্তরণের সময়সীমা

গত ২৯ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর ফলে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

দেবপ্রিয় বলেন, সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে মূল মাপকাঠি করা হয়নি। বরং দেশের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তাঁর মতে, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক মালিকানার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

সংস্কারের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করছে আস্থা

অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাওয়ার সিদ্ধান্তকে শর্তসাপেক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, তার ওপর আস্থা রেখেই জাতিসংঘ বাড়তি সময় দিয়েছে।

তিনি বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নই এখন পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার করতে ব্যর্থ হলে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

দেবপ্রিয় বলেন, “যদি সংস্কার আপনি না করেন, তাহলে কিন্তু আপনার কথার বরখেলাপ হবে। তাহলে কিন্তু দেশ হিসেবে আমাদের যে বিশ্বাসযোগ্যতা, সেটাতে আঘাত আসবে—এটা স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন