৫–৭ নভেম্বর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রদর্শনী; বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য অ্যামচ্যামের
আড়াই বছর বিরতির পর ঢাকায় ফিরছে ইউএস ট্রেড শো। আগামী ৫ নভেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শুরু হবে তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী, চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) এ তথ্য জানায়। প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য
অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য আগেই ঘোষণা করেছে চেম্বার। এ লক্ষ্য অর্জনে ইউএস ট্রেড শো ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে যদি ১০ থেকে ১২টি নতুন মার্কিন কোম্পানিকে বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়, সেটিও হবে একটি বড় অর্জন।”
৪৩ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ, ৬৩টি বুথ
আয়োজকদের তথ্যমতে, এবারের প্রদর্শনীতে ৬৩টি বুথের মাধ্যমে মোট ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৬টি কোম্পানি ও সাতটি স্টার্টআপ।
বিভিন্ন দেশের আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরাও প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকবেন। তাঁরা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজবেন।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী খোলা থাকবে। তিন দিনে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
অনলাইন নিবন্ধনে বিনা মূল্যে প্রবেশ
ইউএস ট্রেড শোতে অংশ নিতে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের মাধ্যমে বিনা মূল্যে প্রদর্শনীতে প্রবেশ করা যাবে। ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে একটি পাসই যথেষ্ট।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ প্রদর্শনীতে অংশ নিতে নিবন্ধন করেছেন।
তিন দিনে ছয়টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার
প্রদর্শনীর পাশাপাশি তিন দিনে ছয়টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি, নারীর নেতৃত্ব, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে।
এসব সেমিনারে নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ খোঁজা হবে।
প্রথমবার থাকছে খাতভিত্তিক বিশেষ জোন
এবারের প্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো খাতভিত্তিক বিশেষ জোন রাখা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা, ভোগ্যপণ্য, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য ও সেবা তুলে ধরবে।
এ ছাড়া উদীয়মান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবন প্রদর্শন এবং সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে থাকবে বিশেষ স্টার্টআপ জোন।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও জিআই পণ্য প্রদর্শন
ইউএস ট্রেড শোতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের জন্যও বিশেষ আয়োজন থাকছে। নকশিকাঁথা ও জামদানির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্বীকৃত ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য তুলে ধরা হবে।
একটি কার্নিভাল জোনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। পাশাপাশি হেরিটেজ কর্নারে ইউএস ট্রেড শোর ৩০ বছরের যাত্রা এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এ আয়োজনের অবদান তুলে ধরা হবে।
এবারের আয়োজনটি বাংলাদেশে অ্যামচ্যামের প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তিও উদ্যাপন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যারা
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

