জুলাই-অক্টোবরে পণ্য রফতানি বেড়েছে ৬ শতাংশ; অক্টোবরে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার
রফতানি আয় ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহের মধ্যে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে পণ্য রফতানি হয়েছে ১৭ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, অক্টোবরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
চার মাসে রফতানি আয় ১৭.০৪ বিলিয়ন ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের রফতানি আয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবর সময়ে দেশের পণ্য রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে। আগের বছরের একই সময়ে রফতানি আয় ছিল ১৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার।
সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রফতানি আয় বেড়েছে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার বা ৬ শতাংশ। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাট, চামড়া ও রাসায়নিক পণ্যের মতো পোশাকবহির্ভূত খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
তৈরি পোশাক খাতেই রফতানি বৃদ্ধির বড় অংশ
জুলাই-অক্টোবর সময়ে নিটওয়্যার রফতানি ৭ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ওভেন পোশাক রফতানি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ বিলিয়ন ডলার।
মোট পণ্য রফতানিতে নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাকের সম্মিলিত অংশ প্রায় ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ। সামগ্রিক রফতানি বৃদ্ধির প্রায় ৮১ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে।
পাট, চামড়া ও রাসায়নিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি
পোশাকবহির্ভূত কয়েকটি খাতেও রফতানি বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই-অক্টোবর সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ১২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং রাসায়নিক পণ্যের ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
এ সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি হয়েছে ৩৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ৪৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের এবং রাসায়নিক পণ্যের ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের।
এ ছাড়া হোম টেক্সটাইলের রফতানি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পাদুকার রফতানি ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
কৃষি ও মৎস্যপণ্যের রফতানিতে পতন
সব খাতে রফতানি বাড়েনি। জুলাই-অক্টোবর সময়ে কৃষিপণ্যের রফতানি ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রফতানি কমেছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং তুলা ও তুলাজাত পণ্যের রফতানি কমেছে ১০ দশমিক ২ শতাংশ।
ফলে তৈরি পোশাক ও কয়েকটি শিল্পপণ্যের রফতানিতে প্রবৃদ্ধি থাকলেও কিছু খাতের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক রফতানি পরিস্থিতিতে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
অক্টোবরে রেমিট্যান্স ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার
রফতানি আয়ের পাশাপাশি প্রবাসী আয়ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। অক্টোবরে দেশে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের তুলনায় এ প্রবাহ বেড়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে মোট ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
৩৬.২৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ নিয়ে নভেম্বর শুরু
রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সের প্রবাহের মধ্যে ৩৬ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে নভেম্বর শুরু করেছে বাংলাদেশ। দেশের রফতানি ও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে। তবে খাতভেদে রফতানি প্রবৃদ্ধির পার্থক্যও পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়েছে।

