মধ্য-ডানপন্থীদের একক প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগকে ‘বিভক্তি ও বিভ্রান্তি’ সৃষ্টির কারণ বললেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ফ্রান্সের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্য-ডানপন্থীদের একক প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য প্রস্তাবিত প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এদুয়ার ফিলিপ। কট্টর ডান ও বামপন্থীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মধ্য-ডানপন্থীদের মধ্যে ঐক্যের উদ্যোগের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় ফ্রান্সের টিএফ১ টেলিভিশনের সংবাদ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিপ প্রস্তাবিত প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেন।
প্রাইমারি নির্বাচন নিয়ে সংশয় ফিলিপের
সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপ বলেন, ‘আমার মনে হয় না এই প্রাইমারি নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে।’ তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ মধ্য-ডানপন্থীদের মধ্যে ‘বিভক্তি ও বিভ্রান্তি’ তৈরি করবে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে নিজেদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে এবং আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে।
ফিলিপের এ বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা প্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে মধ্য-ডানপন্থীদের তুলনামূলক শক্তিশালী প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ সহজ করতে পারেন।
একক প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন গ্যাব্রিয়েল আতাল
এর আগে গত সপ্তাহে মধ্য-ডানপন্থী আরেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল একক প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য প্রাইমারি নির্বাচনের প্রস্তাব দেন।
মধ্য-ডানপন্থীদের মধ্যে একক প্রার্থী নির্ধারণের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আসন্ন নির্বাচনে কট্টর ডান ও বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় ভোট বিভক্তির ঝুঁকি কমানো। তবে ফিলিপের বক্তব্যে প্রস্তাবিত প্রাইমারি নির্বাচন নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।
জনমত জরিপে এগিয়ে মেরিন ল্য পেন
ফ্রান্সের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলের নেতা মেরিন ল্য পেন। অন্যদিকে কট্টর বামপন্থী ফ্রান্স আনবোড দলের প্রবীণ নেতা জঁ-লুক মেলানশোঁও জরিপে ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
এদুয়ার ফিলিপ মধ্য-ডানপন্থী হরাইজনস দলের প্রার্থী। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর অধীনে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জনমত জরিপে মধ্য-ডানপন্থী অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় তিনি এগিয়ে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী বছরের এপ্রিলে প্রথম দফার ভোট
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট আগামী বছরের ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে চূড়ান্ত পর্বের ভোট হবে ২ মে।
নির্বাচনের আগে মধ্য-ডানপন্থীরা একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে পারবেন কি না, তা দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা এবং প্রার্থীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

