নেত্রকোণায় বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন; ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র ও ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার দাবি
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুত্ফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার বিকেলে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়ার কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁরা জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন দুর্গাপুর পৌর শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার ইমরান ইসলাম ইমন (২৪) এবং তেরীবাজার এলাকার মো. সাব্বির আহম্মেদ (২৫)।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের জবানবন্দির বিবরণ প্রকাশ করেননি তিনি। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে বলে জানান ওসি।
আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন
সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নেত্রকোণায় মানববন্ধন করেছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল।
সংগঠনটির ময়মনসিংহ জেলা শাখার উদ্যোগে সোমবার দুপুরে নেত্রকোণা জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ১৫ দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের দাবি জানান। পাশাপাশি মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর, ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।
কর্মসূচিতে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম ও মোহন মিয়াসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
১৫ অক্টোবর গুলি করে হত্যা করা হয় আলিফকে
পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া গ্রামে সাংবাদিক লুত্ফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন ১৬ অক্টোবর রাতে আলিফের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার চারজন
এ মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন—সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব (২২), আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণ (২১), ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) এবং মো. সাব্বির আহম্মেদ (২৫)।
গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে ইমন ও সাব্বির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়ে পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

