অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ১১টি বেদে পরিবার, ক্ষতি প্রায় ৪০ লাখ টাকা
লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে লাগা আগুনে ১১টি বেদে পরিবারের চারটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারী আহত হয়েছেন। আগুনে শিকলে বেঁধে রাখা একটি বানরও পুড়ে মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, অগ্নিকাণ্ডে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ মজুপুর এলাকায় জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কাছে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
যেভাবে আগুনের সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রওশন আলী নামে এক ব্যক্তির ঘরে তাঁর পুত্রবধূ গ্যাস সিলিন্ডারে রান্না করছিলেন। এ সময় হঠাৎ সিলিন্ডারের মুখে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘরের আসবাবপত্রে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন পুরো ঘর ও আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে পাশের আরও কয়েকটি ঘর রক্ষা পায়।
লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টাফ অফিসার জসীম উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন ১১টি কক্ষ পুড়ে গেছে। এতে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আহত নারী, পুড়ে মারা গেছে বানর
আগুন নেভানোর সময় মাথায় কাঠ পড়ে ইসমাত আরা নামে এক নারী আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে শিকলে বেঁধে রাখা একটি বানর আগুনে পুড়ে মারা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ও ফয়জুল আজিম বলেন, আগুন মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ায় চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এসব ঘরে রওশন আলী ও খলিলুর রহমান তাঁদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, ক্ষতি ৪০ লাখ টাকা
ক্ষতিগ্রস্ত মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘরে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিল। আগুনে তাঁর সাত থেকে আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্য পরিবারগুলোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে তাঁদের দাবি।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁরা স্থায়ীভাবে বসতঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করছিলেন। বসতঘর ছাড়া তাঁদের আর তেমন কিছু ছিল না। আগুনে পরিবারগুলো মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সহায়তার আশ্বাস প্রশাসনের
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মেহেদী হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এবং সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ইউএনও ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করা হবে।

