বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ-কসোভোর সংসদীয় সহযোগিতা, ব্যবসা-বিনিয়োগ, শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারে গুরুত্ব | কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, সংসদীয় সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা, গবেষণা এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ-কসোভোর স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির মিল তুলে ধরলেন স্পিকার

সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি বলেন, বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে স্বাধীনতার ইতিহাস ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে। কসোভোর জনগণ দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক নিবিড়তার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অভিন্ন স্বাধীনতার চেতনা এবং সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা বাংলাদেশ ও কসোভোর জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ভিত্তি হতে পারে।

গণতান্ত্রিক অধিকার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ

স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে এ দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে বিগত সরকারের নৃশংস ও বর্বরোচিত শাসনামলের চিত্র উঠে এসেছে।

স্পিকার আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সূচিত হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রপ্রিয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনার প্রশংসা রাষ্ট্রদূতের

কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা বলেন, বাংলাদেশে নতুন একটি গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংসদীয় বিতর্কে সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। মানসম্মত শিক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে এই তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

কসোভোকে স্বীকৃতি দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি স্পিকারকে কসোভো সফরের আমন্ত্রণ জানান। এ সময় দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব

সাক্ষাৎকালে স্পিকার ও রাষ্ট্রদূত উভয়েই বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে সংসদীয় ককাস গ্রুপ গঠন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসার, যৌথ একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারা মনে করেন, এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতি

সাক্ষাৎকালে কসোভোর দূতাবাসের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন