সাধারণ ছুটি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী, বিনা টিকিটে শিশু পার্কে প্রবেশসহ থাকছে নানা আয়োজন।
আগামী ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপনে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। দিবসটি উপলক্ষে সাধারণ ছুটি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বাণী, ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, শিশুদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচির কথা জানানো হয়। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় কর্মসূচিগুলো সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী, জাতীয় পতাকা উত্তোলন
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে পৃথক বাণী দেবেন। এদিন দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি পালিত হবে। দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হবে।
ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নত খাবার
জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় সুবিধাজনক সময়ে দেশের সব মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হবে। একই সঙ্গে মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধন কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।
শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে পার্ক, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা
সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় দেশের সব শিশু পার্ক দিনব্যাপী শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে।
নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান ও দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক আয়োজন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য-সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করা হবে। এ ছাড়া সিনেমা হল ও ভ্যানের মাধ্যমে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেশাত্মবোধক গানের আসর অনুষ্ঠিত হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা এবং জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে স্মারক আলোচনা, সশস্ত্র বাহিনীর আয়োজন
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে বিশেষ স্মারক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শিত হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থায় বিশেষ আয়োজন
দিবসটি উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদর দপ্তরগুলোতে মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হবে।

