অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

প্রকৃত কৃষকের হাতে সরকারি সার পৌঁছানোর নির্দেশনা কৃষিমন্ত্রীর

সার পাচার ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান; আমবাগানে আদা চাষ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করছে সরকার।

সরকারের বরাদ্দ করা সার যেন প্রকৃত কৃষকেরাই ব্যবহার করেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ। তিনি বলেছেন, সরকারি সার অপচয় ও দেশের বাইরে পাচার ঠেকাতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সরমংলা খাড়ি এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সীমান্তে সার পাচার ঠেকাতে নজরদারি

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের কিছু সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের সারের সংকট দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশে এসব সারের দাম বেশি হওয়ায় পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সার যেন আমাদের কৃষকেরা ব্যবহার করেন। কোনো দুষ্টু লোক যেন এই সার অপচয় করতে বা দেশের বাইরে পাচার করতে না পারেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

ইউরিয়া সারের সংকট নেই, বাড়ছে ডিলার

দেশে ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বছরে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লাখ টন ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। এ সারের সরবরাহও স্বাভাবিক আছে। তবে সরকার বেশি ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ করে—এমন সারের মধ্যে দু-এক ধরনের সারের চাহিদা কিছু এলাকায় বেশি থাকায় সাময়িক সংকট দেখা দিচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, আগে প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে সার ডিলার ছিলেন। কৃষি আবাদ ও সারের ব্যবহার বাড়ায় এখন প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাস থেকেই নতুন ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণ শুরু হবে। নতুন ডিলার নিয়োগের পাশাপাশি সার বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী রোপণ মৌসুমে সারের সংকট হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষির নতুন সম্ভাবনা

রাজশাহী অঞ্চলের কৃষির সম্ভাবনা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং কৃষির প্রতি তাঁদের ভালোবাসা রয়েছে। একসময় এ অঞ্চল আম উৎপাদনের জন্য পরিচিত ছিল। বরেন্দ্র সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের পর ধান উৎপাদনেও এগিয়েছে অঞ্চলটি। এখন সবজি উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে।

এ অঞ্চলে নতুন ফসল হিসেবে আদা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের আমবাগানগুলোতে গাছের সারির মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা জায়গা থাকে। সাধারণত এসব জায়গায় কলাই চাষ করা হয়। তবে সেখানে আদা চাষ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মাটির ধরন ও চাষপদ্ধতি বিবেচনায় নিয়ে সরাসরি জমিতে অথবা বস্তায় আদা উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে বলে জানান তিনি।

আদার আমদানিনির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে আদার মতো পণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমানো প্রয়োজন। আমবাগানের অব্যবহৃত জমিতে আদা চাষ করা গেলে কৃষকেরা অতিরিক্ত একটি ফসল পাবেন। একই সঙ্গে দেশে আদার উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে।

বস্তায় আদা চাষের প্রযুক্তি পরিদর্শন

এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানার হরিপুর ইউনিয়নের কসবা এলাকায় কৃষক মোহাম্মদ নাজমুল করিম সুজনের লিচুবাগানে বস্তায় আদা চাষের প্রযুক্তি পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সেখানে প্রায় ৭০০ বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান, রাজশাহীর উপপরিচালক মো. মোস্তফা কামাল, পবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদি হাসান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন