বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

মানবাধিকার ও শান্তি বিষয়ক সংসদীয় ককাসের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চিহ্নিতকরণ, ভুক্তভোগীদের সঠিক চিত্র তুলে ধরা ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্য | সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবগঠিত ‘পার্লামেন্টারি ককাস অন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস’ (Parliamentary Caucus on Human Rights and Peace)-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চিহ্নিত করা, ভুক্তভোগীদের বিষয়ে গ্রহণযোগ্য চিত্র তুলে ধরা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংসদীয় ককাসের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ককাসের সভাপতি ফাহিমা নাসরিন এমপির সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ককাসের সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি, সাঈদ আল নোমান এমপি, মীর আহমাদ বিনকাসেম এমপি, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এমপি, মো. আবুল হাসনাত এমপি, জহরত আদিব চৌধুরী এমপি, সানজিদা ইসলাম এমপি ও আন্না মিনজ এমপি অংশগ্রহণ করেন।

ককাসের সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে মানবাধিকার ও শান্তি বিষয়ক সংসদীয় ককাসের পৃষ্ঠপোষক জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও নিহতদের স্মরণে নীরবতা

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চিহ্নিত করে গ্রহণযোগ্য চিত্র তুলে ধরার আহ্বান

নবগঠিত ককাসের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনাকালে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিগত সময়ে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং যারা এসব ঘটনার ভুক্তভোগী, তাদের চিহ্নিত করে একটি গ্রহণযোগ্য চিত্র তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর সংঘটিত না হয়, সে বিষয়ে সজাগ ও সচেতনভাবে কাজ করার উদ্দেশ্যেই এই ককাস গঠন করা হয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যাতে ভুক্তভোগী হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করার চেষ্টা না করে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার।

তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা যথাযথভাবে চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নির্ভরযোগ্যভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে ককাসকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে নির্বাহী বিভাগের প্রতি আহ্বান

ডেপুটি স্পিকার নির্বাহী বিভাগকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে ককাসের কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করা যায়।

বাংলাদেশে এর আগে এ ধরনের সংসদীয় ককাস গঠিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ককাসটিকে একটি কার্যকর কমিটি হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে দলগতভাবে ও সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করতে হবে।

এ লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে ককাসকে একটি শক্তিশালী কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং গবেষণায় গুরুত্ব

ককাসের কর্মপরিধি আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন, সংস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সভা, সেমিনার ও গবেষণাকর্মে ককাসের সদস্যদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সভাপতি ও সদস্যরা।

তারা মনে করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।

স্বচ্ছ সরকার ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা

বৈঠকে ককাসের সদস্যরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার এবং নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মানবাধিকার সুরক্ষা, জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সংসদীয় ককাসের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি

বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন