বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সরকারি অনুমোদন মিলেছে, সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু

কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটি থেকে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে ছাড়বে তিনটি জাহাজ | সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর চালু হচ্ছে পর্যটন মৌসুমের নৌযাত্রা, দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক পরিবহন শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর)। কক্সবাজার শহরের বাকখালী নদীর নুনিয়াছড়া জেটি থেকে ‘এমভি বার আউলিয়া’, ‘এমভি কর্ণফুলী’ ও ‘এমভি টেকনাফ’—এই তিনটি জাহাজ পর্যায়ক্রমে দ্বীপটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

সরকার ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে এতদিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ার পর জাহাজগুলো চলাচলের অনুমতি পেয়েছে।

‘সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পর্যটকের সংখ্যা যাই হোক না কেন, সেবা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সরকারি অনুমোদনের পর শুরু হচ্ছে জাহাজ চলাচল

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর অনুমোদন পাওয়ার পর তিনটি জাহাজ চলাচলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সম্মতির ভিত্তিতে জাহাজগুলো চলাচলের অনুমতি পেয়েছে।

পর্যটকদের সেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পর্যটক উপস্থিতি কম বা বেশি হলেও নির্ধারিত কার্যক্রম চালু রাখার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিন জাহাজে যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮

শিপিং অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজে মোট ২ হাজার ২৯৮ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা রয়েছে।

জাহাজগুলোর যাত্রী ধারণক্ষমতা হলো—

  • ‘এমভি বার আউলিয়া’: ৮৫০ জন
  • ‘এমভি কর্ণফুলী’: ৭৩২ জন
  • ‘এমভি টেকনাফ’: ৭১৬ জন

জাহাজগুলোর যাত্রা ও ফেরার সময়সূচি

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে তিনটি জাহাজ পর্যায়ক্রমে কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

‘এমভি বার আউলিয়া’ সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাবে এবং দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সেন্ট মার্টিন থেকে ফিরবে।

‘এমভি কর্ণফুলী’ সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করবে এবং দ্বীপ থেকে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ফিরে আসবে।

অন্যদিকে, ‘এমভি টেকনাফ’ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাবে এবং বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ফিরবে।

১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ

সরকারের সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সাড়ে চার মাস পর্যটকরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ ও রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

প্রতিটি পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি বাবদ ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি আগের নিয়ম অনুযায়ী পর্যটকদের অবশ্যই ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড (QR code) সম্বলিত টিকিট সঙ্গে রাখতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যটক দ্বীপটিতে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বহাল থাকছে বিধিনিষেধ

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে গত বছরের বিজ্ঞপ্তিতে আরোপ করা বিধিনিষেধগুলো এখনো কার্যকর থাকবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতের বেলা সমুদ্রসৈকত ও এর সংলগ্ন এলাকায় আগুন জ্বালানো বা আলো প্রজ্জ্বলন, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ।

এ ছাড়া দর্শনার্থীদের কেওড়া বনে প্রবেশ এবং কেওড়া ফল সংগ্রহ, কেনা বা বিক্রি করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করতে পারে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে। এর মধ্যে সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, স্টারফিশ, হর্সশু ক্র্যাব বা রাজকাঁকড়া, সি-গ্রাস বা সামুদ্রিক ঘাস এবং সামুদ্রিক শৈবালের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো নিষিদ্ধ

পরিবেশ সংরক্ষণ ও দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল এবং সি-বাইকের মতো জলযান চালানোও নিষিদ্ধ থাকবে।

পর্যটকদের দ্বীপ ভ্রমণের সময় নির্ধারিত নির্দেশনা ও পরিবেশ সংরক্ষণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন