চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৩৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬ হাজার ৬৮০ রোগী; মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ।
বৃষ্টি কমে গেলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি শেষ হয়নি। তাই নভেম্বর মাস পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, বিগত বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
আজ নগরের টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩৩ জনের
সভায় সিভিল সার্জন অফিসের হালনাগাদ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ৩ হাজার ২১০ জন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২ হাজার ৭৬২ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য জেলা থেকে আসা ৭০৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৬৮০।
একই সময়ে ডেঙ্গুতে মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মহানগর এলাকায় ১২ জন, উপজেলা পর্যায়ে ১৪ জন এবং অন্যান্য জেলার সাতজন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ১৮ জন নারী, নয়জন শিশু ও ছয়জন পুরুষ।
বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৯১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন বলে সভায় জানানো হয়।
মহানগরে হালিশহরে সর্বোচ্চ রোগী
চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার মধ্যে হালিশহরে সর্বোচ্চ ৪৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া কোতোয়ালীতে ৩৩৪ জন, বন্দরে ৩২৪ জন, পাহাড়তলীতে ৩০৪ জন এবং বাকলিয়ায় ২৫৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
উপজেলাগুলোর মধ্যে সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ৮৪৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। কর্ণফুলীতে ৩২৩ জন এবং বাঁশখালীতে ২৩১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৪৩০ জন এবং অক্টোবরে ২ হাজার ১২৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এসব তথ্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, নিয়মিত নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
প্রতিরোধে চারটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং যথাযথ চিকিৎসাসেবা—এই চারটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান চসিক প্রশাসক।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
প্রশাসক আরও বলেন, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়াকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি শেষ হওয়ার লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশক নিধন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
মশক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন প্রায় দেড়শ কর্মী
সভায় জানানো হয়, চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বর্তমানে প্রতিটি ছোট ওয়ার্ডে তিনজন করে এবং বড় ওয়ার্ডে পাঁচজন করে কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে প্রায় দেড়শ কর্মী এ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
মশক নিয়ন্ত্রণে বিটিআইসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং অন্যান্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব কার্যক্রম নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন চসিক প্রশাসক।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

