তিন উপজেলায় ৪৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৭ হাজার টন চাল
অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় চলতি মৌসুমে নড়াইলের তিন উপজেলায় রোপা আমন ধানের ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বা তার চেয়ে বেশি উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলায় ৪৩ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষি বিভাগের তৎপরতা ও কৃষকদের আগ্রহে আবাদ হয়েছে ৪৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১০ হেক্টর বেশি জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে।
আবাদ করা জমি থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
তিন উপজেলায় আবাদ বেড়েছে
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইল জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার বাসসকে জানান, চলতি মৌসুমে নড়াইল সদর উপজেলায় ২০ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ১৬৩ হেক্টর জমিতে।
লোহাগড়া উপজেলায় ১১ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে কালিয়া উপজেলায় ১২ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে।
তিন উপজেলাতেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর পেছনে কৃষকদের আগ্রহ ও কৃষি বিভাগের কার্যক্রম ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কৃষি প্রণোদনায় বাড়ছে কৃষকের আগ্রহ
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বাসসকে বলেন, সরকারিভাবে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনা দেওয়ায় প্রতিবছর রোপা আমন চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
তিনি জানান, আমন ধান কাটা শেষ হলে কৃষকেরা বোরো ধান, সরিষাসহ বিভিন্ন রবি ফসল চাষের প্রস্তুতি নেবেন। এতে জমির ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে
কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আমন ধান কেটে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষকেরা এখন পাকা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত উৎপাদনের সম্ভাবনা ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

