মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

গবেষণার জন্য সময় ও পরিবেশ নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

গবেষণার উদ্দেশ্য হতে হবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর নীতিনির্ধারণ, নতুন চিকিৎসাসেবা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, গবেষণাকে শুধু পরীক্ষায় পাস বা পদোন্নতির মাধ্যম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং গবেষণার মাধ্যমে এমন নতুন জ্ঞান ও উদ্ভাবন সম্ভব, যা মানুষের জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

আজ সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর এস জি এম চৌধুরী মিলনায়তনে ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিন ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি আয়োজিত ‘দ্য রিসার্চ জার্নি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গবেষণার উদ্দেশ্য নির্ধারণ জরুরি

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণার প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে হলে গবেষকদের নিজেদের কিছু মৌলিক প্রশ্ন করা প্রয়োজন। কেন গবেষণা করছেন, এর মাধ্যমে কী অর্জন করতে চান এবং মানুষের জন্য কী অবদান রাখতে চান—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়েই গবেষণার লক্ষ্য নির্ধারণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, গবেষণা করতে গিয়ে এমন কিছু আবিষ্কার হতে পারে, যা একজন মানুষের জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তাই গবেষণাকে কেবল ব্যক্তিগত অর্জন, পরীক্ষায় সাফল্য বা পদোন্নতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।

নীতিনির্ধারণে গবেষণার প্রভাব

গবেষণার সবচেয়ে বড় প্রভাব তৈরি হয় যখন এর ফলাফল জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতিনির্ধারণে পরিবর্তন আনতে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো নীতিমালার একটি বাক্য পরিবর্তিত হতে পারে। সেই পরিবর্তনের প্রভাবে বাজেট বরাদ্দে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ নতুন চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। গবেষণার মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসেবার উদ্যোগও গড়ে উঠতে পারে।

চিকিৎসকদের গবেষণায় সময় ও পরিবেশের সংকট

দেশে চিকিৎসকদের গবেষণার ক্ষেত্রে কর্মব্যস্ততা এবং উপযুক্ত পরিবেশের অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ জন রোগী দেখার মতো চাপের মধ্যে চিকিৎসকদের পক্ষে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সময়, মনোযোগ ও মানসিক প্রস্তুতি বজায় রাখা কঠিন। ফলে প্রত্যাশিত মানের গবেষণা পরিচালনা ও ভালো ফলাফল অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বিদেশের চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি রোগী পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সময় পান। অন্যদিকে, বাংলাদেশের চিকিৎসকদের অনেক বেশি অস্ত্রোপচার ও রোগীর সেবা দিতে হয়। রোগীদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, দেশের কোনো চিকিৎসক বিদেশে গেলে অনেক ক্ষেত্রে তাঁকে আগের তুলনায় বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ, বিদেশে তাঁদের গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও সুযোগ দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণাকে চিকিৎসাসেবার বাইরের কোনো অতিরিক্ত কাজ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। রোগী দেখার মতো গবেষণাও চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ। একই সঙ্গে গবেষণার মান নির্ধারণে শুধু প্রকাশনার সংখ্যা বিবেচনা করাও সঠিক নয়।

প্রকাশনার পরও গবেষণার প্রভাব থাকে

তিনি বলেন, একটি গবেষণা শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশনার পর থেকেই গবেষণার প্রকৃত প্রভাব তৈরি হতে শুরু করে। গবেষণার ফলাফল নতুন উদ্যোগ, কার্যকর কর্মসূচি এবং নীতিগত পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতের অগ্রাধিকারে গবেষণার আহ্বান

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে ইশতেহারে ২০টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয় স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অগ্রাধিকারের অংশ।

তিনি বলেন, গবেষকদের এসব অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে, কেউ যদি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বা প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নিয়ে গবেষণা করতে চান, তাহলে বর্তমান সময়টি তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই খাত পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে।

নীতিনির্ধারণে কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে, তা বিবেচনায় রেখে গবেষণার বিষয় নির্বাচন করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন যারা

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এ কে এম ফরহাদ এবং হাসপাতালের চিকিৎসক ও গবেষণার শিক্ষার্থীরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন