কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের বাছাইকৃত রুকনদের শিক্ষাশিবির
অন্যায়, অসত্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সফল করতে নেতা-কর্মীদের দক্ষ, সৎ, জ্ঞানী, যোগ্য ও আদর্শিক জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, আদর্শিক আন্দোলনে সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা, জ্ঞান ও ব্যক্তিগত সততার সমন্বয় প্রয়োজন। তার ভাষায়, ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান জনশক্তিকে কোনো ‘অপশক্তি’ নস্যাৎ করতে পারবে না।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লা মহানগরীর আইটি কনভেনশন হলে জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের বাছাইকৃত রুকনদের শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানের তথ্য অন্য সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
‘শুধু সাংগঠনিক কর্মী হলে চলবে না’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতের জনশক্তিকে শুধু সাংগঠনিক কর্মী হিসেবে গড়ে উঠলে চলবে না; কোরআন-সুন্নাহর জ্ঞান, তাকওয়া, আমল-আখলাক, নৈতিকতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয় থাকতে হবে।
একজন রুকনকে ব্যক্তিজীবনে ইসলামী আদর্শ অনুসরণের পাশাপাশি সততা, আমানতদারি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, একজন রাজনৈতিক বা আদর্শিক কর্মীর কাজ শুধু সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নয়। সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্বও রয়েছে।
আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানার্জনে গুরুত্ব
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রথমে নিজেদের সংশোধনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আত্মশুদ্ধি ও নিয়মিত জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক যোগ্যতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মানুষের কাছে ইসলামের কল্যাণমূলক দিক তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাকে সংগঠনের কর্মীদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
‘প্রতিকূলতায় হতাশ হওয়া যাবে না’
রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রতিকূলতার প্রসঙ্গ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আদর্শের পথে চলতে গেলে বাধা ও পরীক্ষা আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ বা বিচলিত না হয়ে ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
তিনি নেতা-কর্মীদের কোনো ব্যক্তি বা শক্তির ওপর নির্ভর না করে আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আত্মসমালোচনার আহ্বান
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যোগ্য ও নৈতিক জনশক্তি ছাড়া সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এ কারণে রুকনদের নিয়মিত অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ, আত্মসমালোচনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
সমাজের বিভিন্ন স্তরে ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
অংশ নেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা এটিএম মাসুমের সভাপতিত্বে শিক্ষাশিবির পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। এটিএম মাসুম বর্তমানে দলটির কুমিল্লা-নোয়াখালী সাংগঠনিক অঞ্চলের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।
শিক্ষাশিবিরে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এএইচএম আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ ড. শফিকুল আলম হেলাল এবং মুহাদ্দিস আবু নাছর আশরাফী।
এ সময় কুমিল্লা অঞ্চলের টিম সদস্য ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কুমিল্লা মহানগরীর নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুন এবং মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষাশিবিরে কুমিল্লা-নোয়াখালী সাংগঠনিক অঞ্চলের বাছাইকৃত রুকনরা অংশ নেন।

