নিউইয়র্কে ‘কোডেক্স হিউম্যানিটাটিস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সমাবেশে অংশগ্রহণ • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনার পাশাপাশি ধ্বংসাত্মক ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের জীবনে নতুন সুযোগ সৃষ্টি ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে; তবে মানুষের দায়িত্ববোধ ও বিচার-বিবেচনাকে সরিয়ে দিলে একই প্রযুক্তি ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটির ইয়েল ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘কোডেক্স হিউম্যানিটাটিস’ (Codex Humanitatis)-এর প্রতিষ্ঠাতা সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সময়ে ‘মানুষ হিসেবে টিকে থাকার অর্থ কী’—এ মৌলিক প্রশ্নকে সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশে নোবেল বিজয়ী, বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিল্পী, ব্যবসায়ী এবং নাগরিক সমাজের নেতারা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্যে অধ্যাপক ইউনূস প্রযুক্তির সঙ্গে গ্রামীণের দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মানুষের জন্য সুযোগ সৃষ্টি, সেবা সহজলভ্য করা এবং জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির ইতিবাচক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআইও একইভাবে মানুষের কল্যাণে বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
তবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যত বাড়ছে, মানুষের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস সতর্ক করে বলেন, মানুষের দায়িত্ববোধ ও বিচার-বিবেচনাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে এআইয়ের বিপুল সম্ভাবনাই একসময় ধ্বংসাত্মক শক্তিতে রূপ নিতে পারে।
এ কারণে কোন সিদ্ধান্ত প্রযুক্তির হাতে দেওয়া যেতে পারে এবং কোন বিষয়গুলো অবশ্যই মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে—সে বিষয়ে সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সমাবেশে বিশ্বের প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন এডেলম্যানের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড এডেলম্যান, মাইক্রোসফটের ভাইস চেয়ার ও প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ, মডার্নার প্রধান নির্বাহী স্টেফান ব্যানসেল, এনভিডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট জোনাথন কোহেন, আইবিএমের চিফ কমিউনিকেশনস অফিসার সারাহ মেরন এবং টেসলার বোর্ড সদস্য কিম্বল মাস্ক।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী তাওয়াক্কুল কারমান ও জোডি উইলিয়ামসও এতে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন আইসিএএনের নির্বাহী পরিচালক ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মেলিসা পার্ক এবং রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি।
এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি যখন কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রবাহ থেকে শুরু করে মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকেও বদলে দিচ্ছে, তখন নিউইয়র্কের এ সমাবেশে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, জবাবদিহি ও মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখার প্রশ্নটি গুরুত্ব পায়।
অধ্যাপক ইউনূসের বক্তব্যেও সেই বার্তাই উঠে আসে—এআই মানুষের বিকল্প হয়ে মানবিক বিচারবোধের জায়গা দখল করবে কি না, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষ কীভাবে এই শক্তিশালী প্রযুক্তিকে নিজের কল্যাণে ব্যবহার করবে এবং কোথায় তার সীমা নির্ধারণ করবে।

