‘থ্রি-আর’ কৌশলে অর্থনীতি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা • বিনিয়োগ-উৎপাদন-কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর • প্রযুক্তি ও গবেষণায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান
অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার নতুন উন্নয়নযাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে শনিবার আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ড. তিতুমীর বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার ‘পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন’—এই তিন ‘আর’ বা ‘থ্রি-আর’ কৌশলকে সামনে রেখে নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে।
এই পরিকল্পনায় বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনকেন্দ্র হওয়ার লক্ষ্য
অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়াতে শিল্প খাতের বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, শিল্পের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তর করতে চায় সরকার।
প্রবাসীদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দেশের উন্নয়নযাত্রায় আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান ড. তিতুমীর।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর সংযোগ তৈরিতে প্রবাসী পেশাজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা, দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তর এবং সম্ভাবনাময় বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ড. তিতুমীর বলেন, প্রবাসীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক পেশাগত যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগে পরিণত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত অর্জনকে দেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপান্তরের আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যসহ বিশিষ্টজনরা
সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মনির জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল এবং মিশিগান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মেগান ক্যাভানাহ।
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিরা অংশ নেন।
সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগ ও উৎপাদন সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং বৈশ্বিক পেশাগত নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে এগোতে চায় বাংলাদেশ।

