বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংগঠনের জনশক্তিকে জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতায় নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং মানুষের সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর একটি মিলনায়তনে উপজেলা-থানা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম অঞ্চলের দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংগঠনের জনশক্তিকে নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। মানুষের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে দাবি করে তিনি সংগঠনের জনশক্তিকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে থাকে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে সরকারকে নিজেদের অধীনস্থ রাখার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী নীতিগতভাবে অবস্থান করবে বলে জানান তিনি।
সংগঠনের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি, জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধ করা এবং আদর্শ ও আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে। তরুণ ও যুবসমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন, মানুষের সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার এবং সংগঠনের ভেতরে ভিন্নমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের চর্চা, দুর্নীতি ও নৈতিকতাহীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান, নারী জনশক্তির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। দায়িত্ব পালনে আমানতদারিতা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবু তাহের মো. মাসুম, মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম এবং ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ। শিক্ষাশিবিরে দারসুল কুরআন পেশ করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
মাওলানা আবু তাহের মো. মাসুম ‘সংগঠন পরিচালনায় ইসলামী নীতি’ বিষয়ে বক্তব্যে ইসলামী আদর্শ অনুসরণ এবং সংগঠনের দায়িত্বশীলদের আমানতদারিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, মানুষের হৃদয় ও মন জয় করে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠাই স্বাভাবিক পদ্ধতি।
মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম ‘সুন্নাতে রাসুল (সা.)-এর আলোকে জীবন গঠন’ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি ঈমান ও আকিদার পাশাপাশি ইবাদত, ফরজ-ওয়াজিব, সুন্নাত-নফল, পরিবার, প্রতিবেশী ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধান এবং রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। প্রান্তিক মানুষের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয় সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান সংগঠনের ভেতরে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান। সংগঠন পরিচালনায় আদেশ ও আনুগত্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব সুদৃঢ় করা এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষাশিবিরে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী এবং খাগড়াছড়ি জেলা আমীর অধ্যাপক সৈয়দ মো. আব্দুল মোমেন।
এ ছাড়া শিক্ষাশিবিরে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমীর আলাউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমীন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি আব্দুল জব্বারসহ চট্টগ্রাম মহানগরী, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

