অনুসরণ করুন:
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্ত করেছে ফেসবুক, মার্কিন জুরির রায়

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি ঘিরে মামলায় বড় ধাক্কা মেটার • সম্মতি ছাড়াই লাখো ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ • সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের ঘটনা ছিল মামলার কেন্দ্রে

প্রযুক্তি ডেস্ক

ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, ব্যবহার ও তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হয়—সে বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিল ফেসবুক। বহুল আলোচিত Cambridge Analytica তথ্য কেলেঙ্কারি থেকে উদ্ভূত একটি মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি জুরি এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফেতে জুরি এই রায় দেয়। মামলাটি পরিচালনা করে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিচার শেষে জুরি মেটা প্ল্যাটফর্মসের বিরুদ্ধে আনা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়।

মামলার কেন্দ্রে ছিল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের ঘটনা—Cambridge Analytica scandal। ২০১৮ সালে প্রকাশিত বিভিন্ন অনুসন্ধানে সামনে আসে, তৃতীয় পক্ষের একটি অ্যাপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ Facebook ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান Cambridge Analytica এসব তথ্য ব্যবহারকারীদের সুস্পষ্ট সম্মতি ছাড়াই পেয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

কী অভিযোগ ছিল ফেসবুকের বিরুদ্ধে

নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষের মামলায় অভিযোগ করা হয়, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে কীভাবে দেওয়া হতে পারে—সে বিষয়ে Facebook বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছিল। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ভুল তথ্য মোকাবিলায় নিজেদের নীতি প্রয়োগ এবং কিছু ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে সেই নীতির প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, মামলার লক্ষ্য ছিল ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ, শেয়ার ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে Facebook কী ধরনের বক্তব্য দিয়েছিল এবং বাস্তবে কোম্পানিটির কার্যক্রম তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, সেটি আদালতের সামনে তুলে ধরা।

জাকারবার্গের জবানবন্দিও উপস্থাপন

বিচারকালে Meta-এর প্রধান নির্বাহী Mark Zuckerberg এবং Facebook-এর সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা Sheryl Sandberg-এর ভিডিও জবানবন্দিও উপস্থাপন করা হয়। নিউ মেক্সিকো ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস তাদের জবানবন্দির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু নথিও প্রকাশ করেছে।

Cambridge Analytica কেলেঙ্কারি কী

Cambridge Analytica ছিল একটি রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। একটি তৃতীয় পক্ষের ব্যক্তিত্ববিষয়ক কুইজ অ্যাপের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক Facebook ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নাম সামনে আসে।

সংগৃহীত তথ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটারদের প্রোফাইল তৈরি ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের হয়ে কাজ করেছিল।

২০১৮ সালে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রকাশ্যে আসার পর Facebook-এর তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা, তৃতীয় পক্ষের অ্যাপকে তথ্য ব্যবহারের সুযোগ এবং ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।

কত জরিমানা হতে পারে

জুরির সিদ্ধান্তের পর Facebook-কে শেষ পর্যন্ত কত অর্থ দিতে হবে, সেটি আদালতের বিচারক নির্ধারণ করবেন। মামলায় নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের আইনজীবীরা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার জরিমানা চেয়েছেন।

ফলে চূড়ান্ত আর্থিক দায় কত দাঁড়াবে, সেটি এখনই নিশ্চিত নয়। জুরির রায়কে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানার চূড়ান্ত আদেশ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য নতুন বার্তা

Cambridge Analytica কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার প্রায় আট বছর পর নিউ মেক্সিকোর এই জুরির সিদ্ধান্ত আবারও সামনে আনল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির প্রশ্ন।

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন Facebookসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, অবস্থান, আগ্রহ ও আচরণগত নানা তথ্য শেয়ার করেন। এসব তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ব্যবহারকারীদের সে বিষয়ে কতটা পরিষ্কারভাবে জানানো হচ্ছে—নিউ মেক্সিকোর মামলাটি সেই প্রশ্নকেই নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

ব্যবহারকারী যখন ‘Privacy’ বা ‘Data Protection’-এর প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখছেন, তখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা রক্ষা করা হচ্ছে—Cambridge Analytica-সংক্রান্ত এই রায় প্রযুক্তি দুনিয়ায় সেই পুরোনো প্রশ্নটিই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন