রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ, সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার ২

ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুক্তভোগীদের বাসায় গিয়ে ঝাড়-ফুঁক ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ফকিরটিলা এলাকার মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তার (২১) ও মো. আব্দুল্লাহ মিয়া (৬৬)। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে ছাতকের ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডি ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি দল।

সিআইডি জানায়, চক্রটি ফেসবুকে বিভিন্ন পেজে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিত। দুরারোগ্য রোগসহ নানা সমস্যার চিকিৎসার কথা বলে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হতো। বিজ্ঞাপন দেখে কেউ যোগাযোগ করলে তাকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হতো। পরে কথিত কবিরাজরা চিকিৎসার কথা বলে ভুক্তভোগীর বাসায় গিয়ে ঝাড়-ফুঁক ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের বিশ্বাস অর্জন করত।

একপর্যায়ে চিকিৎসার অংশ হিসেবে বাসায় থাকা সোনা-গয়না এক জায়গায় করতে বলা হতো। এরপর স্বর্ণালংকার রুমালে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা, সেই পানি পুরো ফ্ল্যাটে ছিটানোসহ নানা কৌশলে কথিত চিকিৎসা চালানো হতো। এ সময় ভুক্তভোগীর দৃষ্টি অন্যদিকে থাকার সুযোগে কৌশলে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যেত চক্রের সদস্যরা।

এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে এক ভুক্তভোগী রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। গত ২ জুলাই দায়ের করা ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

সিআইডি মামলাটির তদন্তভার নেওয়ার পর বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু করে। একই সঙ্গে প্রতারণায় ব্যবহৃত ফেসবুক পেজ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ছাতকের ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি জিয়াসমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন আসামি আব্দুল্লাহ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি আরও জানায়, গ্রেপ্তার জিয়াসমিনের হেফাজত থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে একটি স্বর্ণের আংটি এবং লকেটসহ একটি স্বর্ণের চেইন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ২১ দশমিক ৮৩ গ্রাম। এর আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন প্রতারণার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন