রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, চাকু উদ্ধার

যশোরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন হোসেন (২৯) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. সফিয়ার রহমান ওরফে টুটুলকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার টুটুল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

শনিবার পিবিআই যশোরের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পিবিআই জানায়, গত ২০ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোতয়ালী থানার চৌরাস্তা মোড় এলাকায় নিজ স্বর্ণের দোকান থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আল-আমিন। পরে বারান্দীপাড়া লিচুতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে। এরপর তার মরদেহ পূর্ব বারান্দীপাড়া লিচুতলা মাদ্রাসার পেছনে বাবু নামে এক ব্যক্তির মেহগনি বাগানে ফেলে রেখে যায়।

খবর পেয়ে নিহতের মা ঘটনাস্থলে গিয়ে আল-আমিনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন। গত ২১ আগস্ট দায়ের করা মামলাটিতে পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

পরে পিবিআই যশোর স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের এসআই (নিঃ) মো. মাসুদ।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গোলাম রসুল (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে পিবিআই।

পিবিআই জানায়, গোলাম রসুলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সফিয়ার রহমান ওরফে টুটুলকে গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে কোতয়ালী থানার চুড়ামনকাটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে টুটুলের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে কোতয়ালী থানার নাজিরশংকরপুর গ্রামের একটি কোল্ড স্টোরেজের পেছনে ফজের আলীর বাড়ির পূর্ব পাশের জানালার সানশেডের ওপর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার চাকুটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি জব্দ করা হয়েছে।

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, নিহত আল-আমিনের সঙ্গে গোলাম রসুল ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের দিন আসামিরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে আল-আমিনকে নির্জন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই আল-আমিনের মৃত্যু হলে আসামিরা সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পিবিআই।

গ্রেপ্তার টুটুল পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন