শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভারে কক্ষের তালা ভেঙে দম্পতির মরদেহ উদ্ধার, মিলল মৃত ভ্রূণ

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী একটি মৃত ভ্রূণও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়ার নাজমা আক্তার (৩৩) ও তাঁর স্বামী আলমগীর হোসেন (৪২)। আলমগীরের বাড়ি পলাশবাড়ী এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট ওই কক্ষটি ভাড়া নেন আলমগীর ও নাজমা। গত তিন দিন ধরে কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার আশপাশের কক্ষের ভাড়াটেরা ওই কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি ভবন মালিককে জানান।

প্রথমে ভবন মালিক ধারণা করেন, কোনো বিড়াল মারা গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরে দুর্গন্ধ তীব্র হলে মালিক ও ভাড়াটেরা রাতে কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় খাটের ওপর নাজমা ও আলমগীরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই কক্ষে একটি মৃত ভ্রূণও পাওয়া যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

স্থানীয় ভাড়াটিয়াদের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্ষটি ভাড়া নেওয়ার সময় নাজমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর স্বামী আলমগীর হকার হিসেবে কাজ করতেন।

নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলেও তাঁর সঙ্গে নাজমার দেখা হয়েছিল। এরপর শনিবার কর্মস্থলে নাজমাকে না পেয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হন।

শাপলা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর বোন ও ভগ্নিপতিকে গলাটিপে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁর দাবি, নাজমা অন্তঃসত্ত্বা থাকায় গর্ভের সন্তানও মারা যায়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে ওই নারীর গর্ভপাত হয়ে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী ভ্রূণটি বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে। মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত ও ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন