রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে বড় জমায়েত, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনভর নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকায় লংমার্চের গাড়িবহরকে স্বাগত জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয় পথসভাও।

সন্ধ্যায় লংমার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘী ময়দানে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের স্বাগত জানান। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় লংমার্চের সমাপনী জনসভা।

সমাপনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা প্রস্তুত থাকুন, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে। আমরা আসছি, এই লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে।’

১১ দলের ছয় দফা দাবিকে জনগণের দাবি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছয় দফা ১১ দলের কোনো দলের ব্যক্তিগত দফা নয়। এগুলো দেশের জনগণের দফা।’ জনগণের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

চট্টগ্রামকে আন্দোলনের ‘সূতিকাগার’ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

বিএনপিকে সতর্ক করলেন জামায়াত আমির

সমাপনী বক্তব্যে বিএনপির উদ্দেশে সতর্কবার্তাও দেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আগের সরকার যে পথে হেঁটে বিদায় নিয়েছে, বিএনপিও সেই পথে হাঁটতে চায় কি না, তা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা উল্টাপাল্টা করবেন আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে, এটা হবে না। এখন পর্যন্ত আঙুল সোজা, প্রয়োজনে এটা বাঁকা করা হবে।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় বসে সরকার নিজেদের ‘শিশু সরকার’ বলছে। কিন্তু জনগণ কোনো শিশুকে ভোট দেয়নি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেন, মেয়রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি দায়িত্বে রয়েছেন। তার ভাষায়, ‘এর নাম কী? এটা হচ্ছে ফ্যাসিবাদ। আপনি আসেন, নির্বাচন করে আসেন।’

তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা নির্বাচিত কি না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সরকারকে সতর্ক করতেই লংমার্চ

লংমার্চের উদ্দেশ্য তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সরকারকে সতর্ক করার জন্যই এ কর্মসূচি। বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিচারের দাবিও জানান তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, তারা রাজপথে আসতে চাননি; সংসদের ভেতরেই বিষয়গুলোর সমাধান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তাদের রাজপথে আসতে বাধ্য করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা আদায় করব। এর আগে আমরা থামব না, এই লড়াই চলবে।’

২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ড, অন্যান্য হত্যাকাণ্ড এবং ‘আয়নাঘর’ তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিও জানান তিনি। এসব ঘটনার বিচার আদায় করার প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির।

মতিঝিল থেকে চট্টগ্রাম

শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়। রাজধানী ছাড়ার পর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মহাসড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান।

এরপর কুমিল্লায় দুপুর সাড়ে ১২টায়, চৌদ্দগ্রামে বিকেল ৩টায় এবং ফেনীতে পৌনে ৪টার দিকে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন স্থানে লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের জন্য পানি, শরবত ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফেনী থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে আবার যাত্রা শুরু করে গাড়িবহর। পথে মিরসরাইয়ে আরেকটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সন্ধ্যায় লংমার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘী ময়দানে পৌঁছায়।

ছয় দফা দাবি

১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

লংমার্চে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন