শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

‘মাজার জিয়ারত ও মসজিদে নামাজ পড়া ছাড়া স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতির কোনো কাজ করার সুযোগ নেই’: অলি আহমদ

বাংলাদেশের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তার ভাষায়, ‘মাজার জিয়ারত এবং মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া ছাড়া স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতির কোনো কাজ করার সুযোগ নাই।’ 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সময় প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আগাম শুভেচ্ছাও জানান অলি আহমদ। 

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন

সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ মূলত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। তার বক্তব্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে। আগামী দিনে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আরও কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

অলি আহমদের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক প্রধান হলেও বাস্তবে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্র সীমিত।

সংবিধান কী বলে

বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে তার অন্যান্য দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।

ফলে রাষ্ট্রপতির পদটি সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অলি আহমদের বক্তব্যে মূলত এই সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

তবে ‘মাজার জিয়ারত ও মসজিদে নামাজ পড়া ছাড়া’ রাষ্ট্রপতির আর কোনো স্বাধীন কাজ নেই—এটি অলি আহমদের রাজনৈতিক মন্তব্য, সংবিধানের ভাষা নয়।

মির্জা ফখরুলকে আগাম শুভেচ্ছা

সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ তার প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আগাম শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। 

অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলটির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শেষ পর্যন্ত অলি পেলেন ৮৮ ভোট

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার ছিলেন। তাদের মধ্যে ভোট দেন ৩৪৩ জন এবং ছয়জন অনুপস্থিত ছিলেন। ভোট গণনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। 

অলি আহমদ নিজে সংসদ সদস্য না হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। 

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ১৯৯১ সালের পর ৩৫ বছরের মধ্যে এবারই আবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে শুরু থেকেই মির্জা ফখরুলের জয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল। তবে অলি আহমদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

ভোট শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশন পরে তাকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপনও জারি করে। 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হলেও অলি আহমদের বক্তব্য রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন