শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

মিয়ানমার বিশ্লেষক মিন জিনকে ‘অন্যায়ভাবে আটক’ রাখার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান চীনের

মিয়ানমারবিষয়ক গবেষক ও মার্কিন নাগরিক মিন জিনকে চীন ‘অন্যায়ভাবে আটক’ করে রেখেছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং। চীনের দাবি, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে পারে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে চীনা আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মিন জিনের আটক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বেইজিংয়ের অবস্থান তুলে ধরেন।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, দেশটির আইনি ব্যবস্থায় ‘অন্যায়ভাবে আটক’ করার কোনো প্রশ্ন নেই। সংশ্লিষ্ট মার্কিন নাগরিক চীনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন।

এর একদিন আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মিন জিনের আটককে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘wrongful detention’ বা অন্যায়ভাবে আটক হিসেবে চিহ্নিত করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তার মুক্তির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা।

সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে আটক

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন চীন সরকারের আমন্ত্রণে একটি একাডেমিক সম্মেলনে অংশ নিতে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশে গিয়েছিলেন মিন জিন। এরপরই তাকে আটক করা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মিন জিনের মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে চীনে নির্বিচারে আটক কিংবা দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির দাবিও অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন।

তবে মিন জিনের বিরুদ্ধে চীনা কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী এবং তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন ধারায় আইনি কার্যক্রম চলছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কে এই মিন জিন

মিন জিন মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা একজন পরিচিত গবেষক ও বিশ্লেষক। তিনি মিয়ানমারভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Institute for Strategy and Policy-Myanmar (ISP-Myanmar) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটি মিয়ানমারের রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং দেশটির চলমান সশস্ত্র সংঘাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করে।

২০২১ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে যে রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংকট তৈরি হয়েছে, তার বিভিন্ন দিক নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা করে আসছে।

আটকের আগে মিন জিন থাইল্যান্ডে বসবাস করছিলেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারেও বিভিন্ন সময় অবস্থান করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি

মিন জিনের আটক নিয়ে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী অবস্থান এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন বেইজিং ও ওয়াশিংটন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে।

বাণিজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন নাগরিকদের আটক নিয়ে নতুন বিরোধ দুই দেশের সম্পর্কে আরেকটি সংবেদনশীল বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হোয়াইট হাউস সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে মে মাসে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক হয়েছিল। ফলে শীর্ষ পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠকের আগে মিন জিনের মুক্তির বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

চীনে ‘অন্যায়ভাবে আটক’ হিসেবে চিহ্নিত দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক

মিন জিন চীনে আটক এমন দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক, যার আটককে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘wrongful detention’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এর আগে ইউলিন চেন নামের একজন চীনা-মার্কিন ভূকম্পনবিদের আটককেও একইভাবে চিহ্নিত করে ওয়াশিংটন। বোস্টনের ওই বিজ্ঞানীকে ২০২৪ সালে চীনা কর্তৃপক্ষ আটক করেছিল।

চেনের স্ত্রী ইউফাং রং বলেছেন, এ ধরনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বোঝা যায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

মিন জিনের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র তার মুক্তি দাবি করলেও বেইজিং এখন পর্যন্ত সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সামনে এনেছে। ফলে তার আটককে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন