শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

শুধু মেধাবী নয়, দেশকে ধারণ করে ভালো মানুষ হতে হবে: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

শিক্ষাগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, মেধাবীরা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে গেলেও তাদের মধ্যে দেশ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা না থাকলে সেই মেধাই দুর্নীতি ও দেশের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘এ+ সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মানে বাউফল উপজেলা ছাত্রশিবির এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

‘মেধার পাশাপাশি মানুষ হতে হবে’

কৃতী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফল করাই একজন শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত অর্জন নয়। মেধাকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমাদের শুধু মেধাবী হলেই হবে না, মানুষ হতে হবে।”

তিনি বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে যাবেন। সেই অবস্থান থেকে তাদের কোনো কর্মকাণ্ড যেন দেশ ও মানুষের ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে এখন থেকেই অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

‘দেশকে ধারণ করলে বাংলাদেশের চেহারা বদলে যেত’

দেশের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ডাকসু ভিপি বলেন, উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবী ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই অনেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যান। কিন্তু তাদের একটি অংশ পরবর্তী সময়ে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, যা দেশের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়।

তিনি বলেন, “তারা যদি বাংলাদেশকে ধারণ করত, দেশের জন্য স্বপ্ন দেখত এবং দেশ গঠনের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করত, তাহলে বাংলাদেশের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যেত।”

সাদিক কায়েমের মতে, ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ না থাকলে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে সততা ও নৈতিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান

শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন ডাকসু ভিপি। তিনি বলেন, একজন মানুষের শিক্ষা ও যোগ্যতার সুফল যেন শুধু তার নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; পরিবার, সমাজ ও দেশও যেন তা থেকে উপকৃত হয়।

তিনি বলেন, “তোমাদের বেঁচে থাকা যেন সমাজের কল্যাণের কারণ হয়।”

সাদিক কায়েম বলেন, যারা মানুষের কল্যাণে নিজেদের যোগ্যতা ও সামর্থ্য কাজে লাগান, তাদের জীবনই অর্থবহ হয়ে ওঠে। ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক এবং কৃতী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন