শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২৭ সেপ্টেম্বর

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়ায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এ কারণে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

অভিযোগপত্রে নারাজির পর অধিকতর তদন্ত

গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযোগপত্রে ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ আরও কয়েকজনের নামও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তবে অভিযোগপত্রে মামলার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসেনি—এমন আপত্তি তুলে বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন করলে আদালত নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথা ছিল আগের তদন্তে

গোয়েন্দা পুলিশের আগের তদন্তে দাবি করা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যও হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

তবে এগুলো তদন্ত সংস্থার অভিযোগ; বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলো এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

যেভাবে গুলিবিদ্ধ হন হাদি

মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনি প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি।

দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী অটোরিকশাটি পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

হত্যাচেষ্টা থেকে হত্যা মামলা

হাদিকে গুলি করার ঘটনার দুই দিন পর, ১৪ ডিসেম্বর, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও বাদীপক্ষ সেটি গ্রহণ করেনি। নারাজি আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে বর্তমানে সিআইডি মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে।

তদন্ত শেষ না হওয়ায় বৃহস্পতিবারও প্রতিবেদন জমা পড়েনি। আদালতের নতুন আদেশ অনুযায়ী, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন