শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি তদন্তে বিএসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি আমরা টেকনোলজিস লিমিটেডের শেয়ারের সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) বিস্তারিত তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে।

বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সার্ভেইল্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে গত ১৯ আগস্ট ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (সিআরও) কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।

কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না খতিয়ে দেখবে ডিএসই

বিএসইসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারের মূল্য ও লেনদেনে অস্বাভাবিক প্রবণতা দেখা গেছে। বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য এ লেনদেনের বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ারের কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি কিংবা কারসাজিমূলক লেনদেন করেছে কি না, তা খুঁজে দেখতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে কোম্পানিসংক্রান্ত অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য বা Unpublished Price Sensitive Information (UPSI) ব্যবহার করে কেউ সুবিধা নিয়েছেন কি না এবং নিষিদ্ধ ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

ব্রোকারেজ হাউজের ভূমিকাও তদন্তের আওতায়

তদন্ত শুধু বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার এবং তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের কার্যক্রমও পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

বিশেষ করে মার্জিন বিধিমালা ও বিএসইসির সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সন্দেহজনক লেনদেন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কোনো ব্রোকার বা অনুমোদিত প্রতিনিধির প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল কি না কিংবা সন্দেহজনক কার্যক্রম ঠেকাতে দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করবে ডিএসই।

তদন্তে সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত অন্যান্য আইন বা বিধিমালার কোনো লঙ্ঘন পাওয়া গেলে সেটিও প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

ব্রোকারেজ কর্মকর্তাদের সতর্ক করার নির্দেশ

বিএসইসির চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদেরও সতর্ক করার কথা বলা হয়েছে।

বিশেষ করে সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট আচরণবিধি ও বিধান যাতে লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়ে তাদের সচেতন করতে ডিএসইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও (সিএসই) আমরা টেকনোলজিসের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য ডিএসইর কাছে সরবরাহ করতে বলেছে কমিশন।

তিন মাসের কিছু বেশি সময়ে দর বেড়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারের বাজারদরে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দর ছিল ১১ টাকা ৮০ পয়সা। ২০ আগস্ট তা ২০ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়ায়।

এ হিসাবে প্রায় সাড়ে তিন মাসে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ৮ টাকা ৫০ পয়সা বা প্রায় ৭২ শতাংশ

শুধু মূল্য নয়, এ সময় কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর যথাক্রমে ৯ টাকা ৫০ পয়সা এবং ২৪ টাকা ১০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

কোম্পানির দাবি, অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই

শেয়ারের মূল্য ও লেনদেন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় এর আগে ডিএসই ও সিএসই পৃথকভাবে আমরা টেকনোলজিসের কাছে ব্যাখ্যা চায়।

জবাবে কোম্পানিটি জানায়, শেয়ারের সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে—এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য তাদের জানা নেই।

কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক অবস্থা কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনও ঘটেনি, যা শেয়ারদরের এ উত্থানের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।

তবে কোম্পানির ওই ব্যাখ্যার পর এবার লেনদেনের পেছনে কোনো সমন্বিত কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং বা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা রয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দিল বিএসইসি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন