বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো ইউরোপীয় পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি

বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইউরোপের অন্যতম বড় পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি এসএ (LPP S.A.)। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এফইএস রিটেইলের ইনভয়েস-সংক্রান্ত দাবি নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা এখন সমাধানের পথে।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং এলপিপি যৌথ উদ্যোগে বিরোধটি আইনানুগ ও গঠনমূলকভাবে সমাধানের জন্য কাজ করছে।

গতকাল প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বিজিএমইএ ও এলপিপি জানায়, আলোচিত বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে কয়েকটি চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং ইনভয়েস-সংক্রান্ত বকেয়া দায়ের দাবিকে কেন্দ্র করে। এলপিপির দাবি, এসব পাওনার ক্ষেত্রে তারা নিজেদের দেনাদার বা আইনগতভাবে অর্থ পরিশোধে বাধ্য কোনো পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করছে না।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের প্রত্যক্ষ সরবরাহকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের প্রাপ্য অর্থ সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। ফলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে।

বিজিএমইএ বলেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বকেয়া বা ইনভয়েস-সংক্রান্ত দাবি রয়েছে, সেসব দাবি আইনগতভাবে সংশ্লিষ্ট দায়ী পক্ষগুলোর কাছেই উত্থাপন করা উচিত। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে এলপিপি নিজেদের আইনগত অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ ও সমাধানের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে এলপিপির ব্যবসায়িক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশে ৩৫০টিরও বেশি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত রয়েছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তাদের সামগ্রিক সোর্সিং কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, পোশাকশ্রমিক এবং পুরো রপ্তানি খাতেই পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

যৌথ বিবৃতিতে উভয় পক্ষই এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঢালাও প্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, একটি নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক ও আইনগত বিরোধের কারণে বাংলাদেশের সামগ্রিক পোশাক খাত, শ্রমিক এবং দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক সম্পর্ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিজিএমইএ ও এলপিপির এই অবস্থানকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতাদের মধ্যে এলপিপি রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক পোশাক প্রস্তুতকারক ব্যবসা করে আসছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিরোধটি দ্রুত ও আইনসম্মতভাবে নিষ্পত্তি করা গেলে বাংলাদেশ থেকে এলপিপির পণ্য সংগ্রহ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। একই সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থাও অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন