গাজীপুর সদর উপজেলার একটি তৈরি পোশাক কারখানার সামনে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা এক নারী ও তার পাঁচ বছরের শিশুকে উদ্ধার করেছেন কর্তব্যরত দুই আনসার সদস্য। পরে স্বজনদের কাছে তাদের নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার ‘ফ্লাক্সেন ড্রেস মেকার লিমিটেড’ পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া নারীর নাম বন্যা আক্তার (৩৬)। তিনি ওই কারখানায় কাজ করেন। কর্তব্যরত আনসার সদস্য মো. স্বপন মিয়া ও তাপস বৈদ্য রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় বন্যা আক্তার ও তার শিশুকে দেখতে পান। পরে তাদের উদ্ধার করে পাশের একটি দোকানের বারান্দায় নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
আনসার সদস্যদের কাছে শিশুটি জানায়, মায়ের গার্মেন্টসের ছুটি হওয়ার পর তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেছিল। পরে চালক তাদের অন্যত্র নিয়ে পানির সঙ্গে চেতনানাশক জাতীয় কিছু খাওয়ায়। এরপর তারা অচেতন হয়ে পড়লে চালক তাদের মোবাইল ফোন, নাকফুল ও সোনার চেইন নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে আনসার সদস্যরা মানবিক উদ্যোগে অচেতন মা ও শিশুর দেখভাল করেন। মশার কয়েল জ্বালানোর পাশাপাশি রুটি, কলা, পানি ও তেঁতুলের টক খাইয়ে বন্যা আক্তারের চেতনা ফেরানোর চেষ্টা করেন তারা। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে তার ব্যাগে থাকা নগদ ৩০০ টাকা ও মোবাইল ফোনের চার্জার নিজেদের হেফাজতে রাখেন।
সকালে বন্যা আক্তারের কিছুটা জ্ঞান ফিরলে তার দেওয়া ফোন নম্বরে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ভিডিও কলের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে থাকা তার ভাই, বোন ও ভাগ্নেকে শনাক্ত করা হয়।
পরে সকাল ৮টার দিকে বন্যা আক্তারের ভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় জনসাধারণ ও কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতিতে মা ও শিশুকে তার কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়।
দায়িত্বের পাশাপাশি অসহায় মা ও শিশুর পাশে দাঁড়িয়ে দুই আনসার সদস্যের এ মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

