পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠক • বাণিজ্য-বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব • আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময়
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। এ সময় দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
বৈঠকের শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান পাকিস্তানের হাইকমিশনার। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সঙ্গে আগের বৈঠকগুলোর কথাও স্মরণ করেন ইমরান হায়দার।
বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ পাঁচ ক্ষেত্রে গুরুত্ব
বৈঠকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।
দুই পক্ষ এসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে মতবিনিময় করে।
এর আগে গত এপ্রিলে ইমরান হায়দার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সে সময়ও দুই দেশ বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করে। বাংলাদেশ-পাকিস্তান নলেজ করিডরের দ্বিতীয় পর্যায়, ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ এবং জনগণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ও আলোচনায় এসেছিল।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা
রোববারের বৈঠকে শুধু দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। ওই বৈঠকেও বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।
রোববারের বৈঠক সেই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগেরই অংশ, যেখানে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও জনগণ পর্যায়ের সম্পর্ককে সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।

