সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আকাশসীমা জটিলতায় আটকে যায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম, ১ অক্টোবর থেকে আসছে চালান

২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল প্রথম চালান • বিমানবন্দরে প্রস্তুত ছিল বাংলাদেশ • প্রয়োজনীয় আকাশসীমার অনুমতি না মেলায় আসেনি কার্গো • জটিলতা কাটার কথা জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক

|২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে পারেনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম জ্বালানির চালান। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে জ্বালানি ঢাকায় আসার কথা ছিল। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালান গ্রহণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রয়োজনীয় এয়ারস্পেস ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজটি আসেনি।

তবে সেই জটিলতা কেটেছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে রূপপুরের ইউরেনিয়ামের চালান দেশে আসা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের উড়োজাহাজ যেসব দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুমতি আগেই নিতে হয়। ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত চালানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন না হওয়ায় ফ্লাইটটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি।

ইউরেনিয়াম গ্রহণের জন্য ওই দিন ঢাকার বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুত ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে কার্গো উড়োজাহাজ না আসায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন আকাশসীমার ছাড়পত্র না পাওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশকে জানানো হয়।

তবে কোন দেশ বা দেশগুলোর অনুমোদন না পাওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

দেশীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের পথে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রয়োজনীয় আকাশসীমার অনুমোদন সম্পন্ন না হওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটটি আটকে যায়। পরে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ায় নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন জানিয়েছেন, আকাশসীমার অনুমতি-সংক্রান্ত জটিলতা কেটে যাওয়ায় ১ অক্টোবর থেকে জ্বালানি আসবে।

দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আসবে সাত চালান

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা।

সাতটি চালানে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি আসার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানির পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের জন্য কিছু জ্বালানিও আনা হবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানির সাতটি চালান ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসে। সেই জ্বালানি ইতোমধ্যে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে লোড করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম তিন বছরের প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া।

কঠোর নিরাপত্তায় ঈশ্বরদীতে যাবে জ্বালানি

পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করা হয়। বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে জ্বালানি প্রথমে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। সেখান থেকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় সড়কপথে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় নেওয়া হবে।

২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পরিবহনের সময়ও একই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মাণাধীন রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে VVER-1200 প্রযুক্তির দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা।

২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত চালান আটকে যাওয়ার পর এখন নজর ১ অক্টোবরের দিকে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী জ্বালানি পৌঁছালে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পরিকল্পিত সাত চালানের প্রথম ধাপ শুরু হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন