সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পরিচয় দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন এবং কৌশলে প্রায় ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তোফায়েল আলম টিটু (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। পিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরিহিত ছবি ও ভিডিও তৈরি/ব্যবহার করতেন এবং নারীসুলভ কণ্ঠে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন।
পিবিআই ঢাকা জেলার সংবাদ সংক্ষেপে জানানো হয়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার শাহনাজ বেগমের (৪৬) ইতালি প্রবাসী ছেলে শাহাদাত খান (২২)-এর সঙ্গে ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামের একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে যোগাযোগ তৈরি হয়। ওই পেজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরিহিত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে এবং নারী সেনা সদস্য সেজে নারীসুলভ কণ্ঠে ফোনালাপের মাধ্যমে শাহাদাতের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়।
পরে বিভিন্ন কৌশলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে শাহাদাতের কাছ থেকে আনুমানিক ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় প্রথমে বাদী একটি সিআর মামলা করেন। কেরানীগঞ্জে দায়ের করা সিআর মামলা নম্বর-১০৫০/২৬, তারিখ ৮ জুলাই ২০২৬। মামলাটি তদন্তকালে পিবিআই প্রতারণার প্রমাণ পায় এবং বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে।
এরপর পিবিআই ঢাকা জেলার উদ্যোগে বাদীর মাধ্যমে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মামলা নম্বর-২৮ দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের জন্য গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই (নিরস্ত্র) মো. মনজুর রহমান।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় তথ্য ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে তোফায়েল আলম টিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, তোফায়েল আলম টিটু নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে পারেন। ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ইমোতে নারী কণ্ঠে শাহাদাতের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। শাহাদাতের মা তথা মামলার বাদীর মাধ্যমে আসামি তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পরবর্তীতে শাহাদাত ও তার মা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে আদালতে মামলা করেন।
পিবিআইয়ের পিসিপিআর যাচাইয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তার তোফায়েল আলম টিটুর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে সিআর মামলা নম্বর-৪৫৩/২৫ রয়েছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
ঘটনার সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে আরও কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

