বাংলাদেশের প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা ও রপ্তানি সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) প্রেসিডেন্টসহ সংগঠনটির নেতারা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, শিল্পের সম্ভাবনা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ এবং ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকসহ দেশের বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি সম্প্রসারণে এ খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতা শিল্পসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে খাতটির সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে বিস্তারিত শুনেছেন। সংশ্লিষ্টদের সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংসদসহ প্রয়োজনীয় জায়গায় ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ার বলেন, বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা সংগঠনের বোর্ড সদস্য ও প্রতিনিধিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তারা শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলা এবং জাতীয় সংসদে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
শাহরিয়ার আরও বলেন, ডা. শফিকুর রহমান প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে খাতটির সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি লিখিত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের অনুরোধ করেছেন, যাতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিষয়গুলো সংসদসহ সংশ্লিষ্ট জায়গায় উপস্থাপন করা যায়।
বিপিএএমইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, প্যাকেজিং শিল্প শুধু তৈরি পোশাক খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; টেরিটাওয়েল, ওষুধ, চামড়াসহ বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে এ খাত সরাসরি যুক্ত। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক পেপার প্যাকেজিং বাজারের আকার প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার হলেও এ বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। প্যাকেজিং, অ্যাক্সেসরিজ ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় নেতাকে আগামী ৬ থেকে ৯ জানুয়ারি রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ারে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্পের বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শনের জন্যও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিরোধীদলীয় নেতা সময়-সুযোগ অনুযায়ী এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান শাহরিয়ার। সংগঠনটির ওয়েবসাইটেও ২০২৭ সালের GAPEXPO ৬-৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকে শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। সংকটের কারণে উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যে প্রভাব পড়ছে, তা দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকট উৎপাদন ব্যাহত করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এ সময় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও রাহাজানিসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও শিল্পের উন্নয়নে মনোযোগ দিতে চান। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনা এবং একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাগুলোরও নিন্দা জানান। মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, সহিংসতা, মব সৃষ্টি ও পেশিশক্তির ব্যবহার করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
মতবিনিময় সভায় বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ারসহ সংগঠনটির সাবেক প্রেসিডেন্ট, উপদেষ্টা, ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগরীর নেতৃবৃন্দ এবং দলটির শিল্প ও বাণিজ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট নেতারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

