ময়মনসিংহে খালে পানির নিচে ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় শামীম মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, ব্যক্তিগত একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে অর্থ দাবি করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নিরঞ্জন ধর (৫৪) নামে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ সদর থানাধীন বেগুনবাড়ী স্লুইস গেট এলাকায় পানির নিচে একটি ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাশ উদ্ধারের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা লাশটি নিখোঁজ স্বর্ণের কারিগর ও অটোরিকশার মালিক নিরঞ্জন ধরের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সবিতা রানী ধর বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলাটি ২৩ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত মামলা হওয়ায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ বিল্লাল মিয়া।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের গাছা থানাধীন বোর্ডবাজারের বটতলা সর্দার মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানায়, ওই এলাকায় তার শ্যালক মাসুদ রানার ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শিল ও বটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, নিহত নিরঞ্জন ধরের চারটি অটোরিকশা ছিল। তিনি অটোরিকশাগুলো ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকার ‘সততা গ্যারেজে’ রাখতেন। শামীম ওই গ্যারেজের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত থাকায় নিরঞ্জনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে নিরঞ্জন শামীমের একটি ব্যক্তিগত আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা দেখিয়ে অর্থ দাবি করতে থাকেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ দাবি করাকে কেন্দ্র করে শামীমের ভাড়া বাসায় দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শামীম শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন এবং পরে বটি দিয়ে আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পরে লাশ বস্তাবন্দি করে ড্রামের মধ্যে রাখা হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মিশুকযোগে ড্রামটি বেগুনবাড়ী স্লুইস গেটের পানিতে ফেলে দিয়ে শামীম আত্মগোপনে চলে যান বলে তদন্তে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার শামীমকে ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি নিজেকে জড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

