রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর একটি ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে এসির গ্যাস লিকেজকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হলেও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল বুধবার সকালে জানান, মৃত ছয়জনই নবজাতক এবং খুব কাছাকাছি সময়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) তারিকুল ইসলাম ছয় নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কীভাবে গ্যাস লিকেজ হয়েছে বা নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি।
পরে বুধবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের মহাপরিচালক (হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিং) ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, “যে ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হয়েছে, সেখানে ১১ জন মা এবং ছয়জন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ছিল। শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে দুই দিন।”
তিনি ঘটনাটিকে “দুর্ঘটনাজনিত” বলে উল্লেখ করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রব্বানী হোসেন বলেন, “আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয়জন মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি। কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। গ্যাস লিকেজের উৎস এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি জানার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান আদ-দ্বীন হাসপাতালে যাচ্ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

