রাজধানীর ডেমরা এলাকায় দুবাই প্রবাসী মাহবুবুল হক রিপনের বাসায় ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি ও নির্যাতনের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার মধ্যরাতে হাজী বাদশা মিয়া রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের বেলায় ভবনের তৃতীয় তলার বাসার জানালার গ্রিল কেটে তিনজন দুর্বৃত্ত ভেতরে প্রবেশ করে। তারা বাসায় থাকা রিপনের স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়িকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং শারীরিক নির্যাতন চালায়। এ সময় বাসা থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের ছেলে মাহমুদ জানান, ঘটনার সময় বাসায় তাঁর মা, বোন ও ভাগ্নি অবস্থান করছিলেন। দুর্বৃত্তদের নির্যাতনে তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
দুবাই প্রবাসী মাহবুবুল হক রিপন বলেন, ডাকাতরা শুধু নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারই নয়, বাসায় থাকা জমির দলিলও নিয়ে গেছে। তাঁর শাশুড়ীর পেনশনের কয়েক লাখ টাকাও লুট করা হয়েছে। এ সময় বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে তছনছ করা হয় এবং পুরো ঘরে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর থানায় জানানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ডেমরা থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম মির্জা বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তিনজন দুর্বৃত্ত বাসায় প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আইনগত সংজ্ঞা অনুযায়ী ডাকাতি বলতে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির অংশগ্রহণ বোঝায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এবং বিষয়টি বিস্তারিত যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

