মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

আত্মহত্যার আড়ালে পরিকল্পিত হত্যা: দেড় বছর পর পিবিআইয়ের তদন্তে রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ১

প্রথমে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও পিবিআইয়ের দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তথ্য। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে হোটেল কর্মচারী রাসেল মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় বছর পর মামলার রহস্য উন্মোচন করে একজন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতার ব্যক্তি বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

নিহত রাসেল মিয়া (৩৮) জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী পৌরসভার আরামনগর বাজারে একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। গত ১৯ মার্চ ২০২৫ তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ২০ মার্চ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আরামনগর বাজারের দুধহাটি এলাকায় হাফিজুর রহমানের একটি চায়ের দোকানঘরের ভেতরে বাঁশের ধন্নার সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা মোছাঃ মেহেনারা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পরবর্তীতে তদন্তভার পিবিআই, জামালপুর জেলার কাছে ন্যস্ত করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের এসআই সুমন আহমেদ।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১১ আগস্ট ২০২৬ সরিষাবাড়ীর আরামনগর এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আসামি মো. কালু মিয়াকে (২৮) গ্রেফতার করে পিবিআই। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং তার সহযোগী সোহেলসহ অন্যান্যদের নাম প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পরে গ্রেফতারকৃত কালু মিয়া বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার কিছুদিন আগে রাসেল মিয়া সোহেল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। ওই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তদন্তে আরও উঠে আসে, পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে রাসেলকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাসেলকে নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে কালু মিয়াসহ কয়েকজন তাকে মারধর ও নির্যাতন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর উদ্দেশ্যে তার মরদেহ আরামনগর বাজারের ওই চায়ের দোকানঘরে নিয়ে গিয়ে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্তও চলমান।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন