মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

সৌদিতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা, ৫ জন গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে উচ্চ বেতনে ড্রাইভিং ভিসায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি স্মার্টফোন এবং কয়েকটি রেজিস্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) ইউনিট শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বনানী থানার সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া সবাই এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. শামীম (৪০), মো. রুহুল আমিন (২৪), মো. হৃদয় হাসান (২৬), আবু রায়হান (২৯) এবং মো. সানি মিয়া (২৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার কথা বলা হয়। বিজ্ঞাপনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে ভুক্তভোগীকে বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকায় অবস্থিত একটি অফিসে যেতে বলা হয়।

সেখানে চক্রটির সদস্যরা একটি প্রতিষ্ঠানে ড্রাইভিং ভিসায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী বিদেশে যাওয়ার আগেই পুরো টাকা পরিশোধের কথা ছিল।

এরপর বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও নগদে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ড্রাইভিং ভিসা না দিয়ে তাকে সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়।

বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী বনানী থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর-৩১, তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬। মামলায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৬, ১৯ ও ২০ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি একই কৌশলে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে আনুমানিক ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের আকর্ষণীয় প্রস্তাব ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে অর্থ আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে রেখে চক্রটি মানবপাচার ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্য, পলাতক আসামি, চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য অন্যান্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছে। বিদেশে যেতে কেবল সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখা কিংবা ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার বা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সিআইডিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন