মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে সহযোগিতা বাড়াতে ইইউ-সুইডেনের উদ্যোগ

নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং ডিজিটাল সেবায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও সুইডেন। এ লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইইউ-বাংলাদেশ ডিজিটাল কো-অপারেশন রাউন্ডটেবিল’।

ঢাকার আইসিটি টাওয়ারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল যৌথভাবে আয়োজন করে সুইডেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তরের পরবর্তী ধাপগুলো চিহ্নিত করা এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় অংশীদারদের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণ করা।

নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামোয় গুরুত্ব

গোলটেবিলে ডিজিটাল অবকাঠামো ও ‘ট্রাস্টেড নেটওয়ার্ক’ বা নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। টেকসই ডিজিটাল উন্নয়নের জন্য নিরাপদ, অভিঘাত-সহনশীল এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়যোগ্য প্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।

আলোচনায় উঠে আসে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে আধুনিক সরকারি সেবা—দুই ক্ষেত্রেই ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি এর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা ও এআই

ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীল এআই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় এর পরিচালনা ও নীতিগত কাঠামো কীভাবে দায়িত্বশীল ও অধিকারভিত্তিক করা যায়, তা নিয়ে মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ

দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও গোলটেবিলের অন্যতম আলোচ্য ছিল। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে সংযোগ এবং ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ কৌশলের আওতায় সহযোগিতার সুযোগও তুলে ধরা হয়। ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে প্রযুক্তির সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার তাগিদ

ডিজিটাল রূপান্তরে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। উদ্যোক্তা তৈরি, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার প্রসার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এরিকসন⁠-এর প্রতিনিধিরাও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

‘অধিকারভিত্তিক ডিজিটাল শাসন গুরুত্বপূর্ণ’

গোলটেবিলে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো, অধিকারভিত্তিক ডিজিটাল শাসন এবং শক্তিশালী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আয়োজকদের মতে, ডিজিটাল রূপান্তরকে শুধু প্রযুক্তি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিরাপত্তা, মানুষের অধিকার, অন্তর্ভুক্তি এবং উদ্ভাবনের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

গোলটেবিলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় অংশীদাররা ডিজিটাল অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য ব্যবস্থাপনা, এআই, সংযোগ এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রগুলোতে আলোচনাকে বাস্তব সহযোগিতা ও কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন